সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া মেহেরাজ হোসেন (১৯) নামে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা মেহেরাজের বন্ধু সাব্বিরকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও মেহেরাজকে বাঁচানো যায়নি।
নিহত মেহেরাজ চট্টগ্রাম নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ী এলাকার মোশারফ আলীর ছেলে। তিনি ওমরগণি এমইএস কলেজের ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাদের আদি বাড়ি রাজশাহীর আমতলী গ্রামে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেলে দুই বন্ধু বাঁশবাড়িয়া সৈকতে ঘুরতে আসেন। একপর্যায়ে মেহেরাজ পা পিছলে সাগরে পড়ে গেলে বন্ধু সাব্বির তাকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেন। জোয়ারের স্রোত ও সাগরের ঢেউ উত্তাল থাকায় দুজনই ভেসে যান। স্থানীয়রা দ্রুত একটি নৌকার সাহায্যে সাব্বিরকে জীবিত উদ্ধার করলেও মেহেরাজ নিখোঁজ থাকেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর মেহেরাজকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাঁতার না জানার কারণে মেহেরাজ জোয়ারের স্রোতে তলিয়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
এদিকে পর্যটকদের অভিযোগ, ফেরিঘাট নির্মাণের সময় সৈকত সংলগ্ন এলাকায় ড্রেজিং করা এবং বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলনের ফলে তীরের গভীরতা অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। ফলে পর্যটকরা পা পিছলে পড়লেই দ্রুত গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছেন। গত কয়েক বছরে এই এলাকায় দুর্ঘটনার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।














