বন্দরে কমেছে পণ্য হ্যান্ডলিং

বৈশ্বিক সংকট

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ at ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ

আমদানি-রপ্তানিসহ সমুদ্রবাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব কমছে। আমদানির পাশাপাশি রপ্তানিও কমতে থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের আনাগোনা এবং কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ে পরিমাণও কমছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ বৈশ্বিক সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের নেতিবাচক প্রভাব দেশের সার্বিক উৎপাদন এবং অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

সূত্র জানিয়েছে, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, ডলার ক্রাইসিসসহ বৈশ্বিক সংকটে দেশে আমদানি রপ্তানির পরিমাণ কমছে। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের বাজার নানামুখী সংকট মোকাবেলা করছে। কোটি কোটি টাকার তৈরি পোশাকসহ নানা পণ্য অর্ডার করেও নিচ্ছে না বহু বিদেশি বায়ার। একইভাবে এলসি খোলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ির কারণে বহু আমদানিকারকই পণ্য আমদানি করতে পারছে না। অনেক আমদানিকারক ব্যাংকের টাকা মেরে দিয়ে গা ঢাকা দেয়ার একটি নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে বাজারে।

গত নভেম্বর মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ১ লাখ ১ হাজার ৫১১ টিইইউএস কন্টেনার পণ্য আমদানি করা হয়। রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয় ৫৯ হাজার ৯৭৩ টিইইউএস। অক্টোবর মাসে ৯৭ হাজার ৫৩৮ টিইইউএস কন্টেনার পণ্য আমদানি করা হয়। রপ্তানি করা হয় ৫৯ হাজার ৩৩১ টিইইউএস কন্টেনার পণ্য। অক্টোবর মাসের তুলনায় নভেম্বরে আমদানি রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও তা অতীতের সময়কালের তুলনায় কম।

আগের বছর ২০২১ সালে নভেম্বর মাসে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৮ টিইইউএস কন্টেনার পণ্য আমদানি হয়েছিল। রপ্তানি করা হয়েছিল ৬৮ হাজার ৩৭ টিইইউএস কন্টেনার পণ্য। নভেম্বর মাস পর্যন্ত গত ১১ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কন্টেনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২৬ লাখ ৬ হাজার ৭৭২ টিইইউএস। আগের বছর ২০২১ সালে যার পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ ১৪ হাজার ৫৪৮ টিইইউএস।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধসহ বৈশ্বিক সংকট সমুদ্র বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অংশীদারিত্বে বেশ বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা গতকাল বলেছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না।