ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়িতে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি রক্ষায় অবৈধ ব্রিক ফিল্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছে স্থানীয়রা। গতকাল রবিবার সকালে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এনএসবি ব্রিক ফিল্ডসহ এলাকার সকল অবৈধ ব্রিক ফিল্ড স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল করা হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন হারুয়ালছড়ি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন চৌধুরী, স্থানীয় কৃষক আলাউদ্দিন, নুরুল হকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণে বিতর্কিত এনএসবি ব্রিক ফিল্ডটিকে ২০১৮ সালে প্রশাসন গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু একটি মহল আইন অমান্য করে আবারও সেটি চালু করার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ব্রিক ফিল্ডের চারপাশে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি এবং ঘনবসতিপূর্ণ বাড়িঘর। এটি চালু হলে পুরো এলাকার পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠবে। আমরা এর স্থায়ী বন্ধ চাই।
হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, এই ব্রিক ফিল্ডটি এর আগেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আইনকে তোয়াক্কা না করে আবারো এটি চালু করার পাঁয়তারা করছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ব্রিক ফিল্ডটি চালু হলে এলাকার সাধারণ মানুষের বাড়িঘরের পরিবেশ এবং উর্বর কৃষি জমি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। জনস্বার্থে এই অবৈধ ব্রিক ফিল্ডটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা জরুরি।
পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ফটিকছড়িতে মোট ৫৮টি ইটভাটার মধ্যে ৫০টিই অবৈধ এবং বাকি ৮টির অনুমোদন রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কিংবা জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে অন্য ৫০টি ইটভাটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, কৃষি জমি বা ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও, ফটিকছড়িতে দেদারসে ফসলি জমির ওপর গড়ে উঠেছে এসব ভাটা। ভাটায় ব্যবহারের জন্য ফসলি জমির ওপরের অংশ (টপসয়েল) কেটে সাবাড় করা হচ্ছে, যার ফলে এলাকার কৃষি জমি স্থায়ীভাবে ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল বলেন, ফটিকছড়িতে ৫৮টি ইটভাটা রয়েছে। বৈধ ইটভাটার সংখ্যা ৮টি, বাকি ৫০টি অবৈধ। নিয়মানুযায়ী এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












