‘কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ এবং স্ট্রোক প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও পালিত হয়েছে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। গত মঙ্গলবার দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। সেই ধারাবাহিকতায় সিআরপি চট্টগ্রাম–এ কে খান কেন্দ্রের উদ্যোগে আলোচনা সভা, র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে হৃদরোগ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের মাধ্যমে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। তিনি কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে হৃদরোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মানুষ হৃদরোগ ও রক্তনালি জনিত রোগে মারা যায়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কালুরঘাটস্থ সিআরপি চট্টগ্রাম–এ কে খান কেন্দ্র ব্যবস্থাপক ও কনসালটেন্ট ফিজিওথেরাপি মো. খলিলুর রহমান। তিনি প্রি–অপারেটিভ ও পোস্ট–অপারেটিভ কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশনে ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জুনিয়র কনসালটেন্ট ও ফিজিওথেরাপি বিভাগের ইনচার্জ আইনুর নিশাদ রাজীব। তিনি কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশনের ক্ষেত্রে ইন পেশেন্টস, আউট পেশেন্টস, আউট পেশেন্টস অ্যান্ড ফিট ফর্মুলা, ফ্রিকুয়েন্টিস, ইনটেনসিটি ও টাইম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অর্থাৎ একজন রোগীকে সপ্তাহে কত দিন থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ করানো হবে, কতটা তীব্রতায় থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ করানো হবে এবং প্রতিবার কত সময় ধরে থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ করানো হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে ১৫০–৩০০ মিনিট অ্যারোবিক এক্সারসাইজ, শিশু ও কিশোর–কিশোরীদের প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট শারীরিক কার্যকলাপ এবং অন্যদিকে বয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন ভারসাম্য ও পেশি শক্তিশালী করার থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ করা উচিত। অনুষ্ঠানে ফিজিওথেরাপিস্টসহ অন্যান্য পেশাজীবী এবং রোগীরা উপস্থিত ছিলেন।











