টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেইস। নতুন বলে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ ছোবল দিলেন। তাতেই দ্রুত এলোমেলো হয়ে গেল ক্যারিবীয় টপ অর্ডার। কিন্তু সময় যত গড়াল, ততই তেজ ছড়াল ক্যারিবীয় ব্যাটিংয়ে। বিকেলে আলোকস্বল্পতায় যখন দিনের খেলা শেষ হলো, ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়কের মুখের আঁধার ততক্ষণে দূর হয়ে গেছে।
সিলেট টেস্টে দুর্দান্ত শুরুর পর ক্রমে ধার হারায় বাংলাদেশের বোলিং। আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে বিপর্যয় সামলে দিন শেষে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দিনে ৭১ ওভারে তাদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৩৫ রান। অথচ সকালে ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়েছিল তারা। কিন্তু প্রথম ঘণ্টার পর বাকি দিনটি ছিল শুধুই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেখানে জাঙ্গু যেমন বড় নিয়ামক ছিলেন, তেমনি অভিষেকে ফিফটি করে পার্শ্বনায়ক বনে যান কেভিন উইকহ্যাম।
এই উইকহ্যামের খেলারই কথা ছিল না। কিন্তু জ্বরে পড়ে আগের টেস্টে পারফর্ম করা জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারাইন চন্দরপল ছিটকে যান ম্যাচ থেকে। তাতে টেস্ট ক্যাপ পান উইকহ্যাম। একাদশে ফিরে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ইনিংস ওপেন করেন জশুয়া দা সিলভা। জশুয়া দা সিলভা যখন আউট হলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ততক্ষণে কাঁপছে। ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে টস হেরে আগে বোলিং পাওয়াকে আশীর্বাদই মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের জন্য। একাদশে ফেরা তাসকিন সাতসকালেই উপড়ে দেন ব্র্যান্ডন কিংয়ের মিডল ও লেগ স্টাম্প। হাসান মাহমুদের বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন কাভেম হজ। সাদমান ইসলামের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যাওয়া দা সিলভাকেও দ্রুত থামান তাসকিন। দুই পেসারের প্রথম স্পেলেই টালমাটাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
কিন্তু রোদের ছোঁয়া পাওয়ার পর ক্রমে সহজ হয়ে আসে উইকেট। দুই পেসার ক্রমে ধার হারান। স্পিনাররাও এসে তেমন কোনো প্রভাব রাখতে পারেননি। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম আঁটসাঁট বোলিং করলেন বটে। তবে উইকেট শিকারের সম্ভাবনা তৈরি কিংবা ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের ভোগানো–কোনোটিই করতে পারেননি। তিন স্পিনারের চেয়ে তিন পেসারের বোলিং আক্রমণই বেশি উপযুক্ত হতো কিনা, দিনজুড়েই উঠেছে সেই প্রশ্ন।
জাঙ্গু শুরু থেকেই ছিলেন বেশ ইতিবাচক। ফুল লেংথ বল পেলেই দারুণ কিছু ড্রাইভ খেলেছেন তিনি। শর্ট বল আর স্পিনের জবাবও দিয়েছেন দারুণভাবে। অভিষেকে মোটেও নার্ভাস মনে হয়নি উইকহ্যামকে। বরং তার ব্যাটে ছিল নির্ভরতার ছাপ। চতুর্থ উইকেটে ১৩১ রানের জুটি গড়েন দুজন।
দারুণ কৌশলে এই জুটি ভাঙতে পারে বাংলাদেশ। শর্ট লেগে ফিল্ডার রেখে শর্ট বলে উইকহ্যামকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন হাসান। পরে অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে করা কোনাকুনি ডেলিভারিতে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করে উড়িয়ে দেন বেলস। উইকহ্যামের ইনিংস থামে ৬১ রানে।
তবে ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। আরেকটি ভালো জুটি গড়ে তোলেন জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রেভস। ১৪৯ বলে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন জাঙ্গু। সপ্তম টেস্টে তার দ্বিতীয় শতরান এটি। দিন শেষে তিনি অপরাজিত ১১ চার ও ২ ছক্কায় ১১১ রানে। ৩৫ রানে অপরাজিত গ্রেভস। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৭৭ রানের।
সকালের প্রথম স্পেলের পর তাসকিন দিনজুড়েই ছিলেন একদম নির্বিষ। ভালো–মন্দের মিশেল ছিল হাসানের বোলিংয়ে। তিন স্পিনারের বোলিং ছিল একদমই ধারহীন। সামপ্রতিক বিবর্ণ রূপের পরও আরেকটি সুযোগ পাওয়া তাইজুল ফর্মে ফেরার আভাস দিতে পারেননি। অবশ্য প্রথম দিনের উইকেটে স্পিনারদের জন্য তেমন কিছু ছিলও না। লড়াইয়ে ফিরতে দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশকে দেখার মতোই কিছু করতে হবে।










