প্রণব রায় : গীতিকার চিত্রনাট্যকার ও সাংবাদিক

| সোমবার , ৮ আগস্ট, ২০২২ at ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ

প্রণব রায়। প্রখ্যাত কবি, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও সাংবাদিক। ‘মধুমালতী ডাকে আয়’, ‘কতদিন দেখিনি তোমায়’, ‘নিশিরাত বাঁকা চাঁদ আকাশে’, ‘আমি বনফুল ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে’ গানগুলো শোনেনি এমন লোক হয়তো খোঁজে পাওয়া দুষ্কর। এসব বিখ্যাত ও জনপ্রিয় গানের গীতিকার প্রণব যায়। প্রণব রায়ের রচিত প্রায় সাড়ে তিন হাজার গান রয়েছে যা বাংলা আধুনিক গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রণব রায়ের জন্ম ১৯১১ সালের ৫ ডিসেম্বর কলকাতায়। পিতার নাম দেবকুমার রায় চৌধুরী। কলকাতার ব্রাহ্ম বয়েজ স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং সিটি কলেজে ভর্তি হন। এরপর এখান থেকে বিএ পড়ার সময় ‘কারগার’ নামক কবিতার জন্য তাঁর কারাবাস হয়। উল্লেখ্য এই কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল ‘বিশ্বদূত’ পত্রিকায়। কারাবাসের কারণে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটে। ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাবশিষ্য ছিলেন এবং তাঁর রচনার প্রতি আকর্ষণ ছিল। কলেজ জীবনে স্বদেশী আন্দোলনে অংশ নেন। ‘বিশ্বদূত’ পত্রিকায় তিনি প্রথম ‘কমরেড’ শীর্ষক এক কবিতা লেখেন এবং সেজন্য তাঁকে কারাবাস করতে হয়। তাঁর রচিত চারটি গান কাজী নজরুল ইসলামের অনুমোদনে ১৯৩৪ সালে শারদীয় হিজ মাস্টার্স ভয়েস রেকর্ডে প্রথম প্রকাশিত হয়। তাঁর রচিত ‘সাঁঝের তারকা আমি পথ হারায়ে’ ও ‘আমি ভোরের যূথিকা’ গান দুটি যূথিকা রায়ের কণ্ঠে সমান জনপ্রিয়তা পায়। এতে যূথিকা রায় যেমন জনপ্রিয় শিল্পী হিসাবে পরিচিতি পান, তেমনি গীতিকার হিসাবে প্রণব রায়ও খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৩৬ সালে ‘পণ্ডিত মশাই’ ছায়াছবিতে প্রথম গান রচনা করেন এবং এটি কমল দাশগুপ্তের সুরে ভবানী দাস কণ্ঠ দিয়েছেন। এর সাথে তিনি যে গল্পগীতি গুলি রচনা করেছেন সেগুলির প্রতি ছন্দে জীবনের সূক্ষ্ম অনুভূতি ধরা পড়ে। জগন্ময় মিত্রের কণ্ঠে তাঁর লেখা ‘চিঠি’ ও ‘সাতটি বছর আগে পরে’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। প্রণব রায় শুধু গীতিকারই ছিলেন না। চিত্রনাট্যকার, কাহিনিকার হিসাবে কয়েকটি কথাচিত্রের কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন। বিখ্যাত কমেডি ‘ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্টেন্ট’ এর কাহিনি প্রণব রায় রচনা করেন। আবার পরিচালক হিসাবে তাঁর প্রথম ছবি ‘রাঙামাটি’ ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়। তাঁর রচিত কিছু গোয়েদা কাহিনিও রয়েছে। সাংবাদিক হিসেবেও তার বেশ খ্যাতি ছিলো। বছরখানেক কাজ করেছিলেন ‘বসুমতী’ পত্রিকায় বার্তা সম্পাদক হিসাবে। ব্রিটিশবিরোধী পত্রিকা ‘নাগরিক’-এর সম্পাদক ছিলেন তিনি। প্রণব রায় ১৯৭৫ সালের তিনি ৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।