প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের কষ্টার্জিত জয়, শেষ আটে সামনে মরক্কো

পেনাল্টি থেকে গোল করে মেসিকে ছুঁলেন এমবাপ্পে

| সোমবার , ৬ জুলাই, ২০২৬ at ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ

৭০ মিনিট পর্যন্ত গোলের মুখ খুলতে পারেনি এই বিশ্বকাপে একের পর এক প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে এগিয়ে চলা ফ্রান্স। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারল না প্যারাগুয়ে। রক্ষণের একটা ভুলে ম্যাচ হাতছাড়া হল। পেনাল্টি থেকে করা কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ফ্রান্স। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।

চলতি বিশ্বকাপে এটি এমবাপ্পের সাত নম্বর গোল। মেসিও সাতটি গোল করেছেন। দুই তারকা এখন এক জায়গায়। বিশ্বকাপে মোট গোলের নিরিখে মেসির (২০) ঠিক পিছনেই এমবাপ্পে (১৯)। মেসির মতোই দু’টি বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করার নজির গড়লেন ফরাসি স্ট্রাইকার।

এর আগের দিন গত বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে প্রায় আটকে দিয়েছিল কেপ ভার্দে। দেখিয়ে দিয়েছিল লিওনেল মেসিদের দুর্বলতা। সেই একই কাজ করল প্যারাগুয়ে। ফ্রান্সকে কী ভাবে আটকানো যায়, তার পথ দেখিয়ে দিল তারা।

প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো জানতেন, তাদের প্রথম কাজ এমবাপেদের আটকানো। তাই পাঁচ ডিফেন্ডারে দল সাজিয়েছিলেন। তাদের সামনে আরও চার ফুটবলার। আক্রমণে একা হুলিয়ান এনসিসো। এই পরিকল্পনা কাজেও লাগে। প্রথমার্ধে ফ্রান্স পাঁচটি শট নিয়েছিল। কিন্তু একটাও নিশানায় নয়। বোঝা যাচ্ছিল, জায়গা পাচ্ছেন না এমবাপেরা।

সব রকম চেষ্টা করছিল ফ্রান্স। এমবাপে কখনও মাঝে, কখনও বাঁ প্রান্তে চলে যাচ্ছিলেন। ক্রস ভেসে আসছিল প্যারাগুয়ের বঙে। কিন্তু তাদের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিলকে পরাস্ত করতে পারছিল না ফ্রান্স। জার্মানি ম্যাচের থেকেও এই ম্যাচে ভাল খেললেন গিল। পেনাল্টি থেকে গোল খাওয়া ছাড়া একটিও ভুল করেননি। বাঁচিয়েছেন অন্তত তিনটি অবধারিত গোল।

৭০ মিনিটের মাথায় একক দক্ষতায় বল নিয়ে বঙে ঢোকেন ডুয়ে। প্যারাগুয়ের তিন ডিফেন্ডার তাকে আটকাতে গিয়ে ফাউল করে বসেন। প্রথমে রেফারি পেনাল্টি না দিলেও পরে ভার রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বদলান। স্পট থেকে গিলকে পরাস্ত করেন এমবাপে।

এই ম্যাচে ধাক্কাধাক্কি, ফাউল সব দেখা গেল। এমবাপেও তাতে জড়িয়ে পড়লেন। বিরতিতে মাঠ ছাড়ার সময়ও সেই গণ্ডগোল থামেনি। ম্যাচের পর এমবাপে বলেছেন, ‘দরকার হলে আমরা হাত ময়লাও করব। অনেকেই ভেবেছিলেন ফ্রান্স শুধু সুন্দর পাস দেওয়ানেওয়া করে বা ওয়ানটু করে আগ্রাসী ফুটবল খেলবে। ভাল ফুটবল খেলবে। আমরা কিন্তু কুৎসিত ফুটবলও খেলতে জানি। দরকার হলে আমরা কঠিন, লড়াকু ফুটবল খেলব। সে ভাবে খেলেই এই ম্যাচটা আমরা জিতেছি। এই ফুটবলটাও আমরা ওদের চেয়ে ভাল খেলেছি।’ এমবাপে বুঝিয়ে দিয়েছেন, শারীরিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ফ্রান্সকে আটকানো যাবে না। তাঁরা পরিচ্ছন্ন ফুটবলের পাশাপাশি অগোছাল শারীরিক লড়াইয়ের জন্যও তৈরি।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধরোনালদোর মুখোমুখি হবেন আজ ইয়ামাল
পরবর্তী নিবন্ধসালমান শাহ’র লাশ উত্তোলনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ