পোশাক শিল্পে চলমান অস্থিরতার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সহিংসতা সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের দমনে কঠোর হতে সরকারের নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং পোশাক উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলেও তুলে ধরেন তিনি।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনের পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার কথা সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। খবর বিডিনিউজ ও বাংলানিউজের।
এ সময় মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, আজকের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কী নির্দেশনা দিয়েছেন? জবাবে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন, দিক নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থকে রক্ষা করা হয়, তাদের জীবনমান উন্নত হয় এবং বাংলাদেশে উৎপাদন ও উন্নয়ন যাতে ব্যাহত না হয়, রপ্তানি যাতে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। সমস্ত বিষয়ে লক্ষ্য রেখেই যেন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
তিনি বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করেছি যারা সহিংসতার সাথে জড়িত থাকবে, যারা উশৃঙ্খল আচরণ করবে, অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে, অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা জানেন আজকে যে ঘটনা ঘটেছে সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ে মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারের কাছে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিরীহ পোশাক শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে কেউ কেউ ইন্ধন জোগাচ্ছে, যাতে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা যায়, রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত হয় এবং পোশাকশিল্পের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। এ ধরনের অপতৎপরতা সরকার কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করবে।
মজুরি বোর্ড গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বিষয়ে সময় থাকলেও সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিধির নাম পেতে বিলম্ব হয়েছে। গতকাল (শনিবার) রাতে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়ার পর রোববার সকালে মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম মন্ত্রণালয়কে শ্রমিকদের স্বার্থ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন তিনি।
আন্দোলনের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো আজ সোমবার খুলবে কি না–এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের প্রতি উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে থাকলে তা যেন সাময়িক হয়। মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে হবে। রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।












