আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পাহাড়তলী কারখানায় অতিরিক্ত কোচ মেরামতের কাজ শুরু করেছে রেলওয়ে। এবার পাহাড়তলী কারখানায় ১১০টি কোচ মেরামত করা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত ৫২টি কোচের মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান পাহাড়তলী কারখানার তত্ত্বাবধায়ক।
কারখানার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও আসন্ন ঈদুল আজহায় পূর্বাঞ্চল থেকে ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে পাহাড়তলী কারখানায় গত এক মাস ধরে ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ বা বগি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫২টি কোচ মেরামত কাজ শেষ করে পরিবহন বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট কোচর গুলোর মেরামত কাজ শেষ করে কোরবানির ঈদের বন্ধ শুরুর আগেই পরিবহন বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানান পাহাড়তলী কারখানার তত্ত্বাবধায়ক। তবে ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে ইঞ্জিন সংকট নিয়ে টেনশনে রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত রমজানের ঈদে ১২৪টি কোচ মেরামত করা হয়েছিল। কোরবানির ঈদ থেকে রমজানের ঈদে মানুষ বাড়ি বেশি যায় বলে জানান শ্রমিকরা। রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রী চাহিদার কথা বিবেচনা করে রেল কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ট্রেনে (আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনে) ২টি থেকে ৫টি পর্যন্ত অতিরিক্ত কোচ সংযুক্ত করে থাকে। নিয়মিত ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে ঈদ স্পেশাল চালু করা হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটি কারখানা, একটি পাহাড়তলী এবং অপরটি সৈয়দপুর। এই দুটি কারখানায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চলের সকল পুরাতন কোচ এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কোচগুলো মেরামত করে একেবারে নতুন করে তোলা হয়। আর প্রতি বছর ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যে এই দুটি কারখানায় পুরাতন কোচ মেরামত করা হয়। কারখানায় মেরামতকৃত কোচ গুলো ঈদের সময় প্রতিটি ট্রেনে চাহিদা মাফিক যুক্ত করা হয়ে থাকে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার (পাহাড়তলী) প্রকৌশলী রাজেন্দ্র প্রসাদ ভৌমিক জানান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রতিদিন যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য ১১৯টি ইঞ্জিনের দরকার। কিন্তু প্রতিদিন গড়ে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭৫ থেকে ৭৬টির মত। তবে ঈদে ইঞ্জিনের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। এই ব্যাপারে রেল ভবনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। দক্ষ জনবল সংকট এবং ইঞ্জিন মেরামতের জন্য যে মানের যন্ত্রাংশ দরকার সেই মানের যন্ত্রাংশের অভাব রয়েছে বলে জানান মেকানিক্যাল বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
ডিজেলশপে দক্ষ লোকবল না থাকায় নতুন লোকবল দিয়ে ইঞ্জিন মেরামত করে আজকে দেয়ার পর সেটি আবার পরের দিন মেরামতের জন্য ডিজেলশপে ঢুকাতে হয়। ইঞ্জিন মেরামতে যে মানের যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হয় সেই মানের যন্ত্রাংশের অভাব রয়েছে। পূর্বাঞ্চলে যাত্রীবাহী ট্রেনে যত গুলো ইঞ্জিন চলছে তার ৫০ শতাংশের বেশি আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে গেছে বলে জানান প্রকৌশলী রাজেন্দ্র প্রসাদ।














