নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকার গ্রাহকের পানির মিটারের কৃত্রিমভাবে রিডিং কম লিখে দিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়ার পর মিটার রিডার ও পাম্প অপারেটরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি চট্টগ্রাম ওয়াসার বিভিন্ন পানির গ্রাহকের মিটারের রিডিং কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দিয়ে তার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণের তথ্যসহ প্রমাণ পেয়েছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসব দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, এদের বিরুদ্ধে কালকেই ব্যবস্থা নেবো আমি। তাদেরকে সাসপেন্ড করা হবে। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর ওয়াসার রাজস্ব আয় বাড়ানোসহ পানির উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দিনরাত কাজ করছি। কিভাবে পুরো নগরীকে ওয়াসার পানির আওতায় আনা যায় (নগরীর যে সব এলাকায় নিয়মিত পানি যায় না) সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। ইতোমধ্যে একাধিক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম–দুর্নীতিকে সহ্য করা হবে না।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রকৌশল এবং রাজস্ব বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ওয়াসার রাজস্ব বাড়ানোর জন্য ওয়াসার মিটার রিডার, রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা–কর্মচারী, প্রকৌশলী এবং পাম্প অপারেটরসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রতি মাসে মিটিং করছেন। তিনি বকেয়া আয় বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মিটার রিডার এবং রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের তাগাদা দিয়ে আসছেন। একই সাথে গ্রাহকের মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে পানির বিল যেন ঠিক থাকে সেই বিষয়েও বারবার তাগাদা দিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে। যার কারণে বর্তমান ওয়াসার এমডি দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসায় প্রতি মাসে ১৮ কোটি থেকে ১৯ কোটি বা ২০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হতো। এরমধ্যে গত জুলাইয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৬ কোটি ৮০ লাখ এবং আগস্টে ২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ওয়াসা সূত্র জানা গেছে, ইতোমধ্যে বকেয়া রাজস্ব আদায়ে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সিস্টেম এনালিস্ট, কম্পিউটার প্রোগ্রামার, নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজস্ব কর্মকর্তা, রাজম্ব তত্ত্বাবধায়ক ও মিটার পরিদর্শকদের সমন্বয়ে ৮টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই টিমের সদস্যরা প্রতিদিন রুটিন মাফিক সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের কাছে বকেয়া আদায়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
মিটার রিডারদের দুর্নীতির ধরন : মিটার রিডার ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ঘুষ বা কমিশনের বিনিময়ে মিটারের প্রকৃত ব্যবহার কম দেখিয়ে কম বিল তৈরি করেন গ্রাহকদের। ইতোমধ্যে গোপন ক্যামেরার ফুটেজ (সিসিটিভি), ফোন রেকর্ড এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বক্তব্যে তা উঠে এসেছে। যেখানে দেখা যায় নিয়মিত মিটার চেক করা হয় না এবং গ্রাহকের মিটারের রিডিং কমিয়ে দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেন মিটার রিডার ও পাম্প অপারেটররা।
রাজস্ব ক্ষতি : ওয়াসার মিটার রিডার ও পাম্প অপারেটররা কৃত্রিমভাবে পানির বিল কমিয়ে দিয়ে নিজেরা আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার ফলে চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।













