পানিতে ডুবে ধান, জোঁকের ভয়ে মাঠে নামছেন না কৃষক

মীরসরাইয়ের ফেনাফুনি গ্রামে জলাবদ্ধতায় আটকে প্রায় ২০০ একর ইরি ধান

মীরসরাই প্রতিনিধি | শনিবার , ৯ মে, ২০২৬ at ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

মীরসরাই উপজেলার ১২ নং খৈয়াছরা ইউনিয়নের ফেনাফুনি গ্রামের শতাধিক কৃষকের প্রায় ২০০ একর ইরি ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। খাল মজে যাওয়ায় সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতার মধ্যে জোঁকের আক্রমণে ধান কাটতেও পারছেন না কৃষকেরা। এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেনাফুনি গ্রামের গোভানিয়াআবুতোরাব খাল দীর্ঘদিন ধরে মজে রয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুকনো মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দেয়। প্রায় এক যুগ ধরে এ দুর্ভোগ চলছে বলে অভিযোগ তাদের।

গ্রামের প্রায় ৩০০ একর ফসলি জমিতে প্রতিবছর চাষাবাদ ব্যাহত হয়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এবার শতাধিক কৃষক প্রায় ২০০ একর জমিতে ইরি ধানের আবাদ করেন। কেউ ঋণ নিয়ে, কেউ বর্গাচাষি হিসেবে স্বপ্ন নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। তবে গত এক সপ্তাহের অতিবৃষ্টিতে মাঠের বড় অংশ পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও আরও বেশি পানি জমে আছে। অনেক ধান পেকে গেলেও কিছু ধান এখনো পুরোপুরি পাকেনি। পানিতে পড়ে থাকায় ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় নতুন করে দেখা দিয়েছে জোঁকের উপদ্রব। কৃষকেরা জানান, এক থেকে দেড় ইঞ্চি আকারের বইশা জোঁকসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণে মাঠে নেমে ধান কাটতে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা। বেশিক্ষণ পানিতে দাঁড়িয়ে কাজ করাও সম্ভব হচ্ছে না।

ফেনাফুনি গ্রামের কৃষক সাইফউল্লাহ বলেন, তাদের পরিবারের কয়েক কানি জমির ধান মাঠে আটকে আছে। দ্রুত ধান কাটতে না পারলে পানিতে পচে যাবে। এতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার খরচও উঠবে না। পরিবারের খাবারের চাল নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, জমে থাকা পানি কমে গেলে কৃষকেরা ধান কাটার অনুকূল পরিবেশ পাবেন। কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, কৃষকদের সহযোগিতায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাল খনন ও সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে কী করা যায়, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহল্যান্ড থেকে
পরবর্তী নিবন্ধ‘হক’ এবং শাহ বানো