পরিকল্পিত, বাসযোগ্য নগরের স্বপ্ন

খসড়া মাস্টার প্ল্যান নিয়ে মতবিনিময় সত্যিকার বাণিজ্যিক নগরী গড়তে কাজ করছি : সিডিএ চেয়ারম্যান

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. বেলায়েত হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরীকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক নগরী, সবুজ ও নান্দনিক নগরীতে রূপান্তরিত করতে কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। পাহাড় ও সমুদ্র বেষ্টিত অপার সৌন্দর্যময় এই চট্টগ্রামকে সকলের সহযোগিতায় জলাবদ্ধতা, যানজট ও দুষণমুক্ত এবং সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা সম্বলিত পরিকল্পিত বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও রুপটপ সোলার প্যানেল বসানোকে আইনের মাধ্যমে বাধ্যবাধকতায় পরিণত করে কীভাবে টেকসই ভবন নির্মাণ করা যায় সেই লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে গণপূর্ত, স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ‘ব্যবসাবান্ধব পরিকল্পিত নগরায়ণ বাস্তবতা ও প্রত্যাশা : প্রেক্ষাপট বৃহত্তর চট্টগ্রাম এলাকার খসড়া মহাপরিকল্পনা (২০২৫২০৫০)’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৫২০৫০ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরের একটি মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কাজ করছে সিডিএ। মাস্টার প্ল্যানে কোথায় স্কুল হবে, কোথায় হাসপাতাল হবে এবং কোথায় শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকা হবে তা উল্লেখ থাকবে। কীভাবে এ মাস্টার প্ল্যানকে আরো কার্যকর করা যায় সেই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সিডিএতে জনবল সংকটসহ নানা সমস্যা থাকলেও ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে যেকোনো বিষয়ে ত্বরিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে। ভবনের ডিজাইন অনুমোদনের জন্য এখন আর মাসের পর মাস ঘুরতে হবে না। সর্বোচ্চ ৩০৪৫ দিনের মধ্যে ভবনের ডিজাইন অনুমোদন দেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিল্প কারখানা করার ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। বাসাবাড়ির সামনে ময়লা ফেললে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা এবং বিল্ডিং কোড ও ডিজাইন অনুযায়ী ভবন নির্মাণ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি জানান তিনি। আগ্রাবাদ এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প ও লুপ নির্মাণের জন্য নতুন করে প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, সিডিএকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমান চোখে দেখতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এক আইন আর প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের জন্য অন্য আইন হলে চলবে না। তিনি বলেন, রাস্তার পাশে কিংবা ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকানগুলো ভ্যাট, ট্যাক্স প্রদান করে না। কিন্তু তাদের কারণে যানজট যেমন হচ্ছে তেমনি সরকারও রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তাই তাদের পুনর্বাসন করে হকারমুক্ত ফুটপাত ও সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, মাস্টার প্ল্যানে শিল্পকারখানা, স্কুল, হাসপাতাল নির্মাণের ক্ষেত্রে জোনভিত্তিক প্ল্যানিং করা জরুরি, যাতে শিক্ষা জোনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়, হাসপাতাল জোনে হাসপাতাল হয়। পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে জোনভিত্তিক ডিটেইল ম্যাপিং করা প্রয়োজন।

চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ বলেন, মাস্টার প্ল্যানের খসড়ায় গণকবর, রুপটপ সোলার প্যানেল বসানো এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা ও স্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সন্নিবেশ মাস্টার প্ল্যানকে আকর্ষণীয় করবে।

চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আউটার রিং রোড ৮ লেন করা প্রয়োজন। কারণ বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ীকর্ণফুলী টানেল কোস্টাল রোড প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই সড়কের উপর চাপ আরো বাড়বে। তিনি মীরসরাই থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাহাড়ের ভ্যালিগুলোকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের আওতায় আনা, সদরঘাট থেকে কর্ণফুলী ব্রিজ পর্যন্ত তীরবর্তী ওয়াকওয়ে নির্মাণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য প্রফেসর (একাডেমিক) . মোহাম্মদ আলআমিন মাস্টার প্ল্যানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ওয়ার্ডভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বিকেন্দ্রীকরণ এবং রুপটপ সোলারের মাধ্যমে কার্বন ট্রেডিং ও আরবার গ্রিন এরিয়া বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন।

অন্য বক্তারা বলেন, মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হলে সকল সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। তাছাড়া রেললাইনের সাথে সড়ক যোগাযোগ ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা সমন্বয় করা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলায় উপকূলীয় বনায়ন, যানজট কমাতে বাস বে এবং ভবন অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে অতিথিদের গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা, আউটার অ্যান্ড ইনার সার্কুলার রোড নির্মাণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. কামাল হোসেন, চুয়েটের সহকারী অধ্যাপক তন্দ্রা দাশ, চেম্বারের প্রাক্তন সিনিয়র সহসভাপতি এম এ ছালাম, বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, রাশিয়ার অনারারি কনসাল স্থপতি আশিক ইমরান, চেম্বার পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, এস এম সাইফুল আলম, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও শহীদুল আলম, চেম্বারের প্রাক্তন পরিচালক ড. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ, এস এম আবু তৈয়ব ও ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন, পেডরোলো এন কে লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাদের খান, শানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান সাফিয়া গাজী রহমান, লুবরেফের এমডি মোহাম্মদ ইউসুফ, স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্টসের মো. মিজানুর রহমান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী চৌধুরী, রিহ্যাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের চেয়ারম্যান মো. মোরশেদুল হাসান, এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন, গোল্ডেন এইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আসিফ রহমান প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আমান উল্লা আল ছগির, আবু হায়দার চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, মো. জাহিদুল হাসান, এ এস এম ইসমাইল খান, ক্যাপ্টেন মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ ও সরোয়ার আলম খান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরে রেস্তোরাঁয় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান
পরবর্তী নিবন্ধরেল, বাস স্টেশনসহ জনসমাগমপূর্ণ স্থানে হবে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার