বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। গতকাল বৃহস্পতিবার ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
নৌবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের কাঁধে ভাইস এডমিরাল পদমর্যাদার র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে অভিনন্দন জানান।জবাবে ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিকেলে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণ বইয়ে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। এ সময় নৌ সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়া খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৯ সালে এঙিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে দেশ–বিদেশে বিভিন্ন উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন, কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, পরিচালক নৌ অপারেশন্স ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনাসহ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।












