নেতা-কর্মীদের মণ্ডপ পাহারা দেওয়ার নির্দেশ কাদেরের

| শনিবার , ১ অক্টোবর, ২০২২ at ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পূজা মণ্ডপ পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিষ্ক্রিয় মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তারা অনেক বেশি সক্রিয়।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, এই দুর্গোৎসবে সক্রিয়ভাবে, দরকার হলে মন্দিরে মন্দিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নেতা-কর্মীরা পাহারায় থাকবে- এটা আশা করি। খবর বিডিনিউজের।
পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সতর্ক ও সক্রিয়ভাবে থেকে সব ধরনের উদ্বেগ দূর করার আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা আতঙ্কিত হবেন না, উদ্বিগ্ন হবেন না। আমরা আপনাদের পাশে আছি। গতবছর দুর্গা পূজার সময় সাম্প্রদায়িক হামলা-সন্ত্রাসের ঘটনার কথা স্মরণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, গতবারের দুর্ভাগ্যজনক অভিজ্ঞতা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সারা দেশে মন্দিরে মন্দিরে, মণ্ডপে মণ্ডপে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্কভাবে পাহারা দিতে হবে, শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নির্দেশ দিচ্ছি।
দলের ‘অসাম্প্রদায়িক চেতনার’ কথা সামনে এনে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ মনে প্রাণে চিন্তা চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক দল এবং আমাদের প্রায় প্রতিদিনের বক্তব্যে এই চেতনার বিষয়টি আমরা ধারণ করি। সভা-সমাবেশে, বিক্ষোভে দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণে আমরা কখনও দ্বিধাগ্রস্ত হই না। আওয়ামী লীগের শেষ ১৩ বছরের সরকারের সময় গত বছর ছাড়া কোনো ‘অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা’ ঘটেনি মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, গতবার সতর্কতার একটা ঘাটতি ছিল। কারণ সময়টা এখন সাম্প্রদায়িক শক্তি, জঙ্গিবাদী শক্তি… তারা বাইরে তাদেরকে যতটা নিষ্ক্রিয় মনে হয়, ভেতরে ভেতরে তারা তার চেয়ে সক্রিয়। এ রকম একটা বার্তা দেশে আছে। অস্বীকার করার উপায় নেই। কুমিল্লায় যেটা ঘটেছে বীভৎস, চৌমুহনীতে যা ঘটেছে তা আরও ভয়ানক। এছাড়া রংপুরে, সিলেটে, সুনাগঞ্জের নাসিরনগরে অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে।
‘দলীয় পরিচয়ে দুর্বৃত্তরা’ এ ধরনের ঘটনা ঘটায় মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি মনে করি, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায়, যে পরিচয়েই হোক, তাদের একমাত্র পরিচয় হচ্ছে দুর্বৃত্ত। আওয়ামী লীগ পরিচয়েও দুর্বৃত্ত আছে, দলের পরিচয় ব্যবহার করে অনেক দুর্বৃত্ত এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় লক্ষ্য করেছি। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের সবচেয়ে বড় যে উৎসব, সেই উৎসব সামনে রেখে আতঙ্কে থাকবে, উদ্বিগ্ন থাকবে, এটা হতে পারে না। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান- সবার ভোটেরই মূল্য সমান। কারও ভোটের মূল্য বেশি কারো ভোটের মূল্য কম নয়। আপনারও ভোটার, এদেশের নাগরিক, আপনারা দ্বিতীয় তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকু এটা কারোরই মনে করা উচিত না।