নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা হাফিজুর রহমানের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সোমবার , ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার এবারের নির্বাচনটি বোধহয় একটু বেশিই উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এতদিনে যদিও সব উত্তাপ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু গতকাল যেন উত্তাপটা আরো বেশি করে ছড়িয়ে পড়ল। আর এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার পেছনে যে কারণটি রয়েছে তা হচ্ছে সহ সভাপতি পদপ্রার্থী মো. হাফিজুর রহমানের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত। গতকাল নির্বাচন কমিশনার বরাবর এক আবেদন পত্রে তিনি ব্যক্তিগত কারণে এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করেছেন। তিনি তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। উল্লেখ্য হাফিজুর রহমান সিজেকেএস এর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এবং সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দিনের প্যানেল থেকে সহ সভাপতি হিসেবে তার মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছিলেন। কিন্তু এই নির্বাচন এবং প্যানেল করার ক্ষেত্রে তার একটি ভূমিকা ছিল বলে সমালোচনা করেন অনেকেই। আর সে সমালোচনার কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই। যদিও তিনি তার ব্যক্তিগত কারন দেখিয়েছেন। যদিও হাফিজুর রহমান এবারের সিজেকেএস নির্বাচনে এবং প্যানেল গঠনের ক্ষেত্রে তার কোন ভূমিকা নেই বলে জানিয়েছেন বারবার। তিনি বলেন আমি কেবল লেখকের ভূমিকায় ছিলাম। কিন্তু তারপর ও আমাকে কেন এভাবে বলির পাঠা বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে সেটা আমি বুঝতে পারছি না। গতকাল নির্বাচন কমিশনার বরাবর নিজের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের আবেদনের সাথে সিজেকেএস নির্বাচন নিয়ে একটি খোলা চিটিও দিয়েছেন হাফিজুর রহমান। সে চিটিতে তিনি অনেক কথায় বলেছেন। এই নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই তার নিজের ভূমিকা পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন তিনি। হাফিজুর রহমান তার খোলা চিটিতে বলেন আমি প্রথমে সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার বন্ধুবান্ধব, পরিবার পরিজন, আত্নীয় স্বজন সবার পরামর্শে শেষ পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি। এরপর চেষ্টা করেছি নানাভাবে যাতে নির্বাচনটা হয়। তিনি বলেন এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে এবং সবশেষ সিটি মেয়রের অফিসে অনুষ্ঠিত দুটি বৈঠকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যাতে নির্বাচনটা হয়। সবাই যাতে নির্বাচনী ময়দানে নেমে পড়ে। তিনি বলেন আমি এমনও বলেছি সাধারণ সম্পাদক পদ ছাড়া বাকি সব পদে নির্বাচন হোক। কিন্তু কেউ নির্বাচনে যেতে রাজি হলো না। সবাই সিটি মেয়রের হাতে তাদের মনোনয়ন পত্র গুলো জমা দিয়ে আসেন। এবং তাকে বলেন একটি কমিটি গঠন করতে। সে হিসেবে তিনি কমিটি গঠন করলেন। আর আমাকে দায়িত্ব দিলেন তা কেবল লেখার জন্য। এখানে আমার কোন মতামত কিংবা অনুরোধ, আবদার কিছুই ছিলনা। কিন্তু প্যানেল জমা হয়ে যাওয়ার পর আমাকে সব সমালোচনা সইতে হচ্ছে। আমাকে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সবকিছুর মূলে আমাকে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ আমার কোন হাত ছিলনা সেখানে। নানাভাবে, নানা মহলে আমাকে নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে। যা মোটেও আমার প্রতি সুবিচার নয়। তিনি বলেন আমি চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার অনেক পদে ছিলাম। কিন্তু আমাকে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি। তিনি তার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য এসবকে কারন হিসেবে না দেখালেও অনেকেই বলছেন এসব কারণে তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে হাফিজুর রহমান জানিয়েছেণ তার ব্যক্তিগত কারন। যে কারণে তিনি নির্বাচন করতে চাননা। এদিকে হাফিজুর রহমান তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলে প্যানেলের কি হবে তা জানা যায়নি। আজ মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের দিন। আরো দুটি পদে বেশি প্রার্থী রয়েছে। কোসাধ্যক্ষ এবং নির্বাহি সদস্য পদে একজন করে বেশি প্রার্থী রয়েছে। এখন তারা তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেয় কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

x