চট্টগ্রাম নগরের শুলকবহরে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে ফুটওভার ব্রিজ। উদ্দেশ্য ছিল ব্যস্ত সড়ক পারাপারে পথচারীদের ঝুঁকি কমানো। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও সেই ব্রিজে উঠতে পারছেন না নগরবাসী। কারণ, ব্রিজটির খুব কাছ দিয়ে গেছে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ব্রিজটির প্রবেশপথ। ফলে যে ব্রিজ পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের কথা ছিল, সেটিই এখন ব্যবহার অনুপযোগী। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়ক পার হচ্ছেন পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বহদ্দারহাটের পরে মুরাদপুরের আগে শুলকবহরের ব্যস্ত সড়কের ওপর নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটি দাঁড়িয়ে আছে। তবে এর প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্রিজের নিচ দিয়ে কিংবা আশপাশের সড়ক দিয়েই পথচারীদের পারাপার হতে হচ্ছে। ব্যস্ত এই সড়কে যানবাহনের চাপ থাকায় এভাবে পারাপার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে পড়ছেন পথচারীরা। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও নারী পথচারীদের ভোগান্তি বেশি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও সেটি ব্যবহার করা না গেলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফুট ওভারব্রিজটির খুব কাছাকাছি থাকা হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের কারণে সেখানে পথচারী চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ব্রিজটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং নিচের প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, আমরা আসলে সব ফুটওভার ব্রিজগুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছি বা নতুন করে বানাচ্ছি। সেই হিসেবে আমরা কোনটাতে কোনো সমস্যা থাকলে সেটা নিয়ে এনালাইসিস করে কাজ করতেছি। যেমন ডায়াবেটিস হাসপাতালের ওখান থেকে আমরা এস্কেলেটরটা সরিয়ে নেব। যেগুলা রং করা দরকার সেগুলা রং করতেছি, যেখানে অবৈধ স্থাপনা আছে সেগুলা সরিয়ে দিচ্ছি। যেগুলা কাজ কমপ্লিট করার কথা সেগুলা দ্রুত গতিতে কমপ্লিট করছি। আমাদের প্রায় ৩৯টি ফুটওভার ব্রিজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে যেগুলো আছে সেগুলোকে সচল করার জন্য যখন কর্মসূচি গ্রহণ করছি, তখন দেখা গেছে যে ওখানে যে লেভেল (উচ্চতা) আছে সেটি জনগণের জন্য নিরাপদ নয়। সেজন্য পিডিবির সাথে যোগাযোগ পূর্বক এটি সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে এবং ওনারা সরিয়ে নেয়া মাত্রই শুলকবহরের ফুটওভার ব্রিজটি জনগণের জন্য দ্রুত খুলে দেওয়া হবে। ঠিক একইভাবে অন্যান্য ফুটওভার ব্রিজগুলোতেও যে সমস্যা আছে সেগুলো আমরা সমাধান করে দ্রুত চালু করে দিচ্ছি।
প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকলে নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দিনের বেলায় ব্রিজটির প্রবেশপথ বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যার পর এর আশপাশে শিশু–কিশোর ও তরুণদের আনাগোনা দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেকে ব্যারিকেডের আশপাশে অবস্থান করেন। এতে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের ঝুঁকি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি ব্যবহার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ লাইনের ঝুঁকি নিরসন করে ব্রিজটি নিরাপদভাবে চালুর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।












