নরেন আবৃত্তি একাডেমির অনিন্দ্রার কারুকাজ

আনন্দন প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ৭ নভেম্বর, ২০১৯ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
0

২২ অক্টোবর ২০১৯,সন্ধা সাড়ে ৬টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে কবি ময়ূখ চৌধুরীর সৃষ্টিকর্ম নিয়ে নরেন আবৃত্তি একাডেমি আয়োজন করেছিল ‘অনিদ্রার কারুকাজ’। অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছিল কবির রচনা থেকে একক আবৃত্তি, দ্বৈত আবৃত্তি, ছোটদের ও বড়দের বৃন্দ আবৃত্তি এবং গান । এছাড়া আরো আয়োজন করা হয়েছিল কবিতার কোরিওগ্রাফী ও দৃশ্যায়ন।
দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে মারওয়া আনজুমানে জান্নাত ও নওশীন বিনতে জামাল জুঁই এর সঞ্চালনায় একক আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। আসরের শুরুতেই ‘একজন কবির অরুন্ধতী’ শিরোনামে কবিতা আবৃত্তি করেন নাজিবাহ মোস্তাফিজ, তারপরে ‘লজ্জা’ শিরোনামে আবৃত্তি করেন বিজয় শংকর চৌধুরী, ‘একটি নাম,দুই চোখের আড়ালে’ শিরোনামে কেয়া শারমিন, ‘হারানো বিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামে অনিন্দা দাশ ও ‘মাঝে মাঝে’ শিরোনামে আবৃত্তি করেন কৃষ্ণা বড়ুয়া।
একক আবৃত্তির পর ‘বল তুমি কার’ শিরোনামে গান পরিবেশন করেন দীপ্ত সেন। গান শেষ হবার পর আবার একক আবৃত্তির আয়োজনে আবৃত্তি করেন, ‘সবিতা নামের অর্থ’ শিরোনামে নাওফাহ সালসাবিল, ‘মৃত্যদৃশ্য. ও ‘নুর হোসেন সংসদে যাবেনা?’ আবৃত্তি করেন ধীমান দাশ ও প্রাঙ্গন শুভ। এছাড়া ‘চল যাই মুক্তিযুদ্ধ’ শিরোনামে নাজিফা মোস্তাফিজ এবং ‘নব্য পুরাণ’ শিরোনামে মারিয়া খানম ইরিনা আবৃত্তি করেন।
কবির রচিত ছড়া নিয়ে বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে নরেন আবৃত্তি একাডেমির শিশু সদস্যরা।একক কবিতা ও গানের পরিবেশনা শেষে কথামালার আয়োজনে অংশ নেন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক নিতাই কুমার ভট্টাচার্য ও প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক কবি বিশ্বজিৎ চৌধুরী। কথামালার পর্ব শেষে মঞ্চে পরিবেশিত হয় ‘এ শহর আমার শহর’ শিরোনামে কবিতার কোরিওগ্রাফী। এরপর ছিলো লুসিয়া নাফসি জুহি’র কন্ঠে ‘ওরে মাঝি’ গানের পরিবেশনা। এরপর আবারও একক আবৃত্তি পরিবেশিত হয়, ‘সন্ধ্যার বেহালা বাদক’ প্রবাল চৌধুরী, ‘জলের দেশ’ কবিতাটি নিবেদিতা মল্লিক, ‘প্লেগের শহর’ কবিতাটি কানিজ ফাতেমা রিম্পি, ‘বাড়ি বদলের গল্প’ কবিতাটি নওশীন বিনতে জামাল জুঁই, ‘খেলনাগাড়ি’ কবিতাটি শ্রাবণী দত্ত, ‘যেহেতু তুমি বলেছিলে’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন শর্মিষ্ঠা বল বসু। এছাড়া মনোমুগ্ধকর ছন্দে ‘ঘুরে ফিরে স্বর্ণলতা’ শিরোনামে আবৃত্তি করেন মারওয়া আনজুমানে জান্নাত। এ পর্বে একক আবৃত্তির পরে ‘শব্দের রানি’ এবং ‘প্রজা’ কবিতার সঙ্গে কোরিওগ্রাফীর পরিবেশনা ভালো লেগেছে দর্শকদের। পরের পর্বে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত ‘মরিয়মের কিস্তা’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন কৃষ্ণা বড়ুয়া যা দর্শকদের আনন্দ দেয়। এছাড়া ‘নষ্ট জ্যোৎস্না’ ও ‘চারু মজুমদার’ শিরোনামে আবৃত্তি করেন আবদুল্লাহ আল কবির এবং মারিয়া খানম ইরিনা। তারপরেই দ্বৈত আবৃত্তিতে ‘ছহি বারাঙ্গনাকাব্য’ পরিবেশন করেন শর্মিষ্ঠা বল বসু ও শ্রাবণী দত্ত এবং ‘আপু এবং আজ না, আরেকদিন’ পরিবেশন করেন নওশীন বিনতে জামাল জুঁই ও আবদুল্লাহ আল কবির। চারটি কবিতার সমন্বয়ে মঞ্চে বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশনা করেন নরেন আবৃত্তি একাডেমির আবৃত্তিশিল্পীরা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ‘চন্ডীদাশ রজকীনির প্রতিশোধপর্ব’ আবৃত্তি করেন প্রাঙ্গন শুভ।
নরেন আবৃত্তিশিল্পীদের পাশাপাশি মঞ্চে দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উত্তরায়ণ’ দলের সদস্যরা,আলোক ত্রিবেদী আবৃত্তি করেন ‘নুর হোসেন সংসদে যাবেনা?, এখন আমি’, অনিক মহাজন আবৃত্তি করেন ‘একটি মেয়ে একবার,নিয়মমাফিক’ শম্পা বড়ুয়া, মৈত্রী সাহা, হাফসা বিনতে খায়ের ও মনীষা দাশ আবৃত্তি করেন ‘পরিস্থিতি’, ‘পৃথকীকরণ’, ‘নেই,থাকেনা’ ও ‘সেই শাড়ি’। বাঁশিতে ছিলেন শামীম আহমেদ। তাছাড়া আরও কিছু একক কবিতা ‘আগুনের টান’ শিরোনামে জারিন বিনতে জসীম, ‘স্বাধীনতা,প্রিয় স্বাধীনতা’ শিরোনামে অনিন্দা দাশ, ‘পাথরের মত মোহনায়’ শিরোনামে নাজিফা মোস্তাফিজ ও ‘যুদ্ধ এবং নিহত সৈনিকের স্ত্রী’ শিরোনামে নবীন আবৃত্তি পরিবেশন করেন। সংবাদপাঠিকার ভূমিকায় ‘আবহাওয়ার মধ্যাহ্নকালীন বিজ্ঞপ্তি’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন মারওয়া আনজুমানে জান্নাত।এরপর ময়ূখ চৌধুরীর লেখা দুটি কবিতার সঙ্গে মিল রেখে দেখানো হয় কবিতার দৃশ্যচিত্র। কোরিওগ্রাফী পরিচালনা করেন সূচনা ভৌমিক।আবহসংগীত ও আলোক পরিচালনায় ছিলেন দিদারুল আলম। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিকল্পনায় ছিলেন ফয়জুন নেসা তাসনিম ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মিতাশা মাহরীন। আয়োজনের শেষ দিকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন কবি ময়ূখ চৌধুরী।

x