ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে গত ১১ সেপ্টেম্বর দোয়া মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সাজ্জাদানশীন–এ দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরীফ, পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মাজিআ) বলেন, শত বছর আগে সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ বাংলাদেশে শুভাগমন করে আনজুমান ও জামেয়া প্রতিষ্ঠা করে নবী প্রমের যে জাগরণ সৃষ্টি করেছেন, বাঙালি মুসলমানরা তাতে মতোয়ারা হয়েছেন, আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি সেই প্রেমে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপলক্ষে জুলুসের আয়োজন করে বহ্নিশিখা জ্বালিয়েছেন, আজ তার আলোয় পৃথিবী আলোকিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রায় বিশ দিন আগে বাংলাদেশে এসেছি ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিশ্বের সেরা জুলুসে অংগ্রহণ করতে। তার মানে এই নয় যে, পাকিস্তানে জুলুস হয় না। পাকিস্তানে ইসলামাবাদ থেকে সিরিকোট সব জায়গায় জুলুস হয়, আমরা নিজ জেলায় জুলুসের আয়োজন করি, তবে বাংলাদেশে আসি শুধু আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি জুলুস প্রবর্তন করে যে ইশকে রাসুলের জোয়ার সৃষ্টি করেছেন তাতে শরিক হওয়ার জন্য। তিনি বলেন, জশনে জলুসে ঈদে মিলাদুন্নবীকে যারা বিদাত বলে, তারা প্রকৃতপক্ষে পবিত্র কোরআনে আল্লাহর নির্দেশকে অস্বীকার করে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, তোমরা আমার ফজল ও রহমতে ধন্য হয়েছ, এর জন্য আল্লাহর শোকরিয়া আদায়ার্থে ঈদ তথা খুশী উদযাপন কর। সৃষ্টি জগতে সবচেয়ে বড় নিয়ামত, রহমত হচ্ছে আল্লাহর হাবীব রহমাতুল্লিল আলামীন। সুতরাং আমরা সুন্নি মুসলমান রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনকে রহমতের দিন, নিয়ামত প্রাপ্তির দিন হিসেবে জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আয়োজন করি। বাঙালি মুসলমান ভাগ্যবান যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুলুস এ বাংলাদেশে হয়। এ জুলুসে জনসমুদ্র বিশ্বকে অবাক করে। এতো মানুষের মধ্যে আনজুমান ট্রাস্ট, গাউসিয়া কমিটি ও আনজুমান ফোর্সসহ দেশের সকল স্তরের প্রশাসন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ ও অন্যন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যে সহযোগিতা করেছেন এর জন্য তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে জুলুসকে বিশ্বব্যাপী প্রচার প্রসারে গণমাধ্যমের ভূমিকাকে আবারও স্মরণ করে দেশি বিদেশি সকল সাংবাদিককে ধন্যবাদ জানান। তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামের জুলুসে অংশগ্রহণকারী সকল মুসলিম ভাইদের শোকরিয়া আদায় করেন। আগামীতে এ ধারা আরো গতিময় ও সমৃদ্ধ হবে বলে প্রত্যাশা করেন। মাহফিলে শাহজাদা সৈয়দ মুহম্মদ কাসিম শাহ সকল ভাইদের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি না’তে মোস্তফা পরিবেশন করেন। আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনজুর আলম মনজু ও সেক্রেটারি জেনারেল আনোয়ার হোসেন শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। এর আগে আনজুমান ট্রাস্ট ও গাউসিয়া কমিটির পক্ষ থেকে হুজুর কেবলা ও শাহজাদা হুজুরকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে গাউসিয়া কমিটি চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরসহ পার্বত্য জেলাসমূহ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনকে পুরস্কার ও স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন আনজুমান–এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের অ্যাডিশনাল জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সামশুদ্দীন, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি এস এম গিয়াস উদ্দীন (শাকের), অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি ও পিপিএস মাহমুদ নেওয়াজ, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসাইন খোকন, আনজুমান সদস্য হাফেজ মুহাম্মদ সোলায়মান আনসারী, শাহাজাদ ইবনে দিদার, আনোয়ারুল হক, আবদুল হামিদ, নুরুল আমিন, সাদেক হোসেন পাপ্পু, মাহবুবুল আলম, আবদুল হাই মাসুম, মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, ড. মুহাম্মদ সাইফুল আলম, তৌহিদুল করিম, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, হাফেজ মারুফুর রহমান, মাহবুবুল হক খান, মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন মুন্না, মোহাম্মদ জহুরুল আলম, এইএমবি’র সচিব অধ্যক্ষ আবু ছালেহ মো. নঈম উদ্দীন প্রমুখ। অ্যাড. মোছাহেব উদ্দীন বখতিয়ার, অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল ও মাওলানা মুহাম্মদ আবুল হাশেমের যৌথ সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন মুফতি কাজী আবদুল ওয়াজেদ, অধ্যক্ষ হাফেজ কাজী আবদুল আলীম রিজভী, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন আযহারী, ড. এটিএম লিয়াকত আলী, মাওলানা মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন আযহারী, মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন আলকাদেরী।
মিলাদ–ক্বিয়াম শেষে আল্লামা পীর সাবির শাহ (মাজিআ) গাউসিয়া কমিটির ভাইদের জন্য, আনজুমান ফোর্সের ভাইদের জন্য সর্বোপরি চট্টগ্রামবাসীর জন্য মহান আল্লাহ্ তা’আলার দরবারে দো’আ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












