এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক–কর্মচারীরাও নবম জাতীয় পে স্কেলের আওতায় থাকছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো তারাও গত ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন–ভাতা পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন–১ অনুবিভাগের উপসচিব জামিলা শবনম গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলে বেতন–ভাতা পান। তারাও নবম পে–স্কেলের আওতায় থাকছেন। এ মুহূর্তে এতটুকুই বলতে পারছি। খবর বিডিনিউজের।
এর আগে ২০২৩ সালে জুলাই মাসে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের ৫ শতাংশ বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির পাশাপাশি আরও ৫ শতাংশ বা ন্যূনতম ১ হাজার টাকা বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল সরকার। তখন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য এ সুবিধা ঘোষণা করে আলাদা আদেশ জারি করেছিল অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন–১ অনুবিভাগ। এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের নবম পে স্কেলের অন্তর্ভুক্ত ঘোষণা করে এমন আলাদা আদেশ জারি করা হবে কি না, এমন প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করতে চাননি উপসচিব জামিলা শবনম। গতকাল বিকাল সাড়ে চারটায় ফেসবুক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন লিখেছেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে।”
এমপিওভুক্ত স্কুল–কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক–কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। এমপিও নীতিমালায় শিক্ষক–কর্মচারীদের বেতন স্কেলের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বেতন স্কেল বলতে জাতীয় বেতন স্কেল–২০১৫ এবং সময়ে সময়ে সরকার ঘোষিত জাতীয় বেতন স্কেলকে বোঝাবে।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন–ভাতার জন্য আর্থিক অনুদান দেয় সরকার, যা এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) নামে পরিচিত। এসব শিক্ষক–কর্মচারী স্কেল অনুযায়ী শতভাগ মূল বেতন পান। এর সঙ্গে চিকিৎসা ভাতাসহ কিছু ভাতা পান।
এর মধ্যে গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার করার সিদ্ধান্ত হয়। তার আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা মাসে এক হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পেতেন। বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক–কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী।







