নজরুল আমার আমিত্বকে প্রকাশ করে গেছেন নির্ভয়ে

দীপান্বিতা চৌধুরী | বুধবার , ২৫ মে, ২০২২ at ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ

‘গঙ্গা সিন্ধু নর্ম্মদা কাবেরী যমুনা ওই/ বহিয়া চলেছে আগের মতন / কইরে আগের মানুষ কই’। সত্যিই বিষ্ময়কর! এতটা-ই ধ্রুব এ কালজয়ী গানের কথাগুলো যা শিরা অণুশিরা বেয়ে শুধু জীবন্ত হয়ে ভেসে উঠে। এ কালজয়ী গানের সৃষ্টিকর্তা বাংলার বিদ্রোহী কবি, সাহিত্যের অমৃতপুত্র আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের। ঊনিশ শতকে সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ইত্যাদি নিয়ে যখন বাংলার যুগান্তকারী মনীষীদের তোলপাড় তখন সারাবিশ্বে আলোড়ন তুলেছেন আমাদের দুখু মিয়া।

গতানুগতিক নিয়মে শিক্ষিত না হলেও নজরুল তাঁর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে, সে সময়ে দাঁড়িয়ে তিনি চিরায়ত সত্য স্থাপন করে গেছেন। সত্যি তো! মৌনী স্তব্ধ হিমালয় এখনও আছে, মনুষ্যকুলে শুধু নেই সত্যের সাধনা করার সেই ঋষি। এখন সংশয় নিয়ে আমরা প্রেমের মন্ত্র উচ্চারণ করি তাই নীল আকাশে দেবতা ইন্দ্র আর নেই। ন্যায়দণ্ডে মরিচা ধরার ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন সাম্যের গায়ক নজরুল ইসলাম। বিপ্লব ছাড়া পরিবর্তন অসম্ভব।

সমাজ সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে বিপ্লব অপরিহার্য। সে বিপ্লব এনেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তুু বিপ্লব রক্ষা করার মত সে মানুষ তিনি খুঁজে পাননি। তাঁর ভাষায় সৃষ্টিকর্তার সবকিছুই আগের মত আছে। নেই শুধু তা রক্ষা করার মতো কেউ। তলোয়ার যুদ্ধে যে সিংহাসন অর্জন করা হলো তার যোগ্য উত্তরসূরীর বড়ই অভাব। তাই তিনি নিজে বিদ্রোহী হয়ে শিখিয়ে গেছেন বিপ্লব। প্রলয় ধুমকেতুর মতো নাচনে তিনি ব্রিটিশের রাজশক্তিকে হতভম্ব করে দিয়েছিলেন।

তাঁর প্রতিটি কবিতায় তিনি আকাশ, প্রকৃতি, জয় পরাজয়, সমাজ সংস্কার, এমনকি কুসংস্কার, বিধবা নারীদের কথাও তিনি বলে গেছেন অক্ষরে অক্ষরে।
আমার আমিত্বকে প্রকাশ করে গেছেন নির্ভয়ে। নজরুল কখনও ধর্মকে নিয়ে বিদ্রোহ করেন নি। তাঁর বিদ্রোহ ছিলো ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। সেটাই মহাধর্ম। দিনশেষে স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন করুণ নিয়তির কথা ভেবে।