নগরের ৯টি ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে হাম–রুবেলার সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ২ নং জালালাবাদ, ৪ নং চান্দগাঁও, ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী, ১৪ নং লালখান বাজার, ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া, ৩১ নং আলকরণ, ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ও ৪০ নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ড। ওয়ার্ডগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে এখানে কাজ শুরু করেছে বিশেষ ‘মপ–আপ’ টিম।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরের টাইগারপাসে সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হাম–রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন নিয়ে সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হাম–রুবেলার টিকা প্রদানের লক্ষ্য ইতোমধ্যে প্রায় ৯৪ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ২০ এপ্রিল মাসব্যাপী হাম–রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সিটি কর্পোরেশন। চলবে ২০ মে পর্যন্ত। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পূর্বে নগরের বাকি শিশুদের টিকার আওতায় আনার জন্য নির্দেশনা দেন তিনি।
শাহাদাত বলেন, ৩ লাখ ২৮৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫২০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পেইনের বাকি দিনগুলোর মধ্যে টিকার টার্গেট পূর্ণ হবে বলে আশা করছি। তিনি বলেন, সারা দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হয়। হাম একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক রোগ, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এর ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এমনকি শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে আমরা ডোর–টু–ডোর কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
মেয়র বলেন, একটি শিশুও যেন টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়। টার্গেট পূরণ হলেও টিকার বাইরে কোনো শিশু থাকলে তাকে টিকা দিতে হবে। এছাড়া চাকরিজীবী অভিভাবকদের সুবিধার্থে সান্ধ্যকালীন টিকাদান কার্যক্রমও চালু রাখতে হবে। বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা প্রস্তুত ও মাইকিং করতে হবে।
সভা সূত্রে জানা গেছে, নগরে সিটি কর্পোরেশনের ৭টি জোন এবং ৪১টি ওয়ার্ডে এই টিকাদান কার্যক্রম চলছে। মাঠপর্যায়ে ২০৫টি অস্থায়ী টিম, ৪৮টি স্থায়ী টিম, ৪১টি মপ–আপ টিম এবং ১৪টি সান্ধ্যকালীন সেশনসহ মোট তিন শতাধিক টিম এই কার্যক্রমে কাজ করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উত্তর কাট্টলী এলাকায় টিকাদানের অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি হলেও দেওয়ান বাজার ও পাঁচলাইশ এলাকায় এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ কারণে নিয়মিত টিকাদান দলের পাশাপাশি ৪১টি বিশেষ ‘মপ–আপ’ টিম ও ১৪টি সান্ধ্যকালীন সেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে চার দিন ধরে এসব টিম কাজ করবে।
সভায় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম ও সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমাম হোসেন রানা উপস্থিত ছিলেন।













