
চট্টগ্রামকে শুধু বন্দরনগরী হিসেবে দেখলে তার একটি গভীর পরিচয় আড়ালে থেকে যায়। এই নগর ও জেলার আরেক পরিচয় তার পাহাড়, বন, ছড়া, ঝরনা, উপকূলীয় সবুজ ও সমুদ্রের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক। মীরসরাই–সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি বন থেকে ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বনভূমি সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের বনভূদৃশ্য কেবল কাঠ ও বনজ সম্পদের উৎস নয়; এটি একটি বিশাল জীবন্ত প্রাকৃতিক অবকাঠামো।
এই বন মাটি ধরে রাখে, বৃষ্টির পানি শোষণ ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, কার্বন সঞ্চয় করে, জীববৈচিত্র্যের আবাস তৈরি করে, নগরের তাপ প্রশমিত করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় প্রাকৃতিক সুরক্ষা গড়ে তোলে। তাই বন সংরক্ষণ শুধু বন বিভাগের সম্পদ রক্ষার বিষয় নয়; এটি চট্টগ্রামের পানি, মাটি, জীববৈচিত্র্য, জননিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বাসযোগ্যতার প্রশ্ন।
কত বন আছে–তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, বন কতটা জীবন্ত? চট্টগ্রামের বনাঞ্চল প্রধানত চট্টগ্রাম উত্তর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায়। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত এলাকা ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য পরিচালনা করে।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এর ব্যবস্থাপনাধীন বনভূমির পরিমাণ ১,৩৯,৮৩৭.৪১ একর বা ৫৬,৬১৪.৩৪ হেক্টর। এর মধ্যে ৪৪,৫৫৯.৪৫ হেক্টর সংরক্ষিত বন, ১০,২৭৬.৯৮ হেক্টর রক্ষিত বন এবং ১,৩৯৭.০৩ হেক্টর অর্পিত বন। বিভাগটির আওতায় রয়েছে ১৩টি রেঞ্জ ও ২৮টি বিট।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনেও রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, দোহাজারী, চুনতি ও বাঁশখালীসহ বিস্তৃত পাহাড়ি বন রয়েছে। তবে এর পুরো বনভূমির একই সময়ের, সমন্বিত ও হালনাগাদ সরকারি আয়তন উন্মুক্ত নথিতে স্পষ্ট নয়। ফলে বিভিন্ন সংবাদসূত্রে পাওয়া আনুমানিক সংখ্যা দিয়ে জেলার মোট বনভূমি নির্ধারণ করা সমীচীন নয়। উপকূলীয় বন বিভাগের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ এর প্রশাসনিক পরিসর চট্টগ্রামের বাইরে কক্সবাজারেও বিস্তৃত। আবার বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের আয়তন অন্য বন বিভাগের সঙ্গে যোগ করলে দ্বৈত গণনার সম্ভাবনা থাকে।
কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো– বনের মূল্য শুধু তার আয়তনে মাপা যায় না। ২০২৫ সালের গবেষণায় চট্টগ্রাম নগরে প্রায় ২৯.৯ লাখ গাছ, ২৩.৩ শতাংশ বৃক্ষ–আবরণ এবং ১৩৬টি বৃক্ষপ্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। এটি নগরের সবুজের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি নির্দেশ করে। কিন্তু বৃক্ষ–আবরণ আর প্রাকৃতিক বন এক নয়। একটি পূর্ণাঙ্গ বনে গাছের পাশাপাশি থাকে গুল্ম, লতা, তৃণ, মৃতজৈব পদার্থ, ছত্রাক, অণুজীব, মাটির প্রাণী ও বন্যপ্রাণী; থাকে স্বাভাবিক পুনর্জন্মের ক্ষমতা। তাই বন ব্যবস্থাপনার সাফল্য শুধু ‘কত গাছ লাগানো হলো’ দিয়ে নয়, বরং ‘কতটা সুস্থ বাস্তুতন্ত্র ফিরল’ তা দিয়ে মাপতে হবে।
নগরের পাহাড়: প্রাকৃতিক নিরাপত্তাবলয়
চট্টগ্রামের পাহাড়কে দীর্ঘদিন ধরে অনেক ক্ষেত্রে নির্মাণযোগ্য জমি হিসেবে দেখা হয়েছে। অথচ নগরের গাছপালা ও সবুজভূমি যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সেবা দেয়, সামপ্রতিক গবেষণায় তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
২০২৫ সালের এক গবেষণায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার নগর– বৃক্ষসমষ্টিতে প্রায় ২.২৯ লাখ টন কার্বন সঞ্চয়, বছরে প্রায় ১,৪০৬ টন বায়ুদূষক অপসারণ এবং প্রায় ৪.০৪ মিলিয়ন ঘনমিটার বার্ষিক পৃষ্ঠপ্রবাহ কমানোর সক্ষমতা হিসাব করা হয়েছে। নগরের তাপমাত্রা প্রশমনেও এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ পাহাড় ও বড় গাছ শুধু সৌন্দযের্র উপাদান নয়; এগুলো কার্বন ভাণ্ডার, বায়ু পরিশোধক, তাপ নিয়ন্ত্রক এবং পানি–প্রবাহের প্রাকৃতিক নিয়ামক।
জবরদখল ও বনভূমির রূপান্তর:
চট্টগ্রামের বনভূমির অন্যতম বড় সংকট জবরদখল। তবে সব দখলের চরিত্র এক নয়। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এবং বিশেষত ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর আশ্রয়হীন কিছু মানুষ বনভূমিতে বসতি স্থাপন করে। পরবর্তী সময়ে কোথাও বসতি, কোথাও কৃষি ও বাগান, কোথাও অন্যান্য ভূমি–ব্যবহার বিস্তৃত হয়েছে।
একই সরকারি নথিতে প্রায় ৭,৯১৬.৫২ হেক্টর বনভূমি জবরদখলকৃত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২,৫৫৬.৫২ হেক্টর বাড়িঘর–সমৃদ্ধ এবং ৫,৩৬০ হেক্টর বৃক্ষাচ্ছাদিত এলাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। উচ্ছেদের জন্য ১,৯৬২টি প্রস্তাব পাঠানোর তথ্যও রয়েছে। তবে এগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি নথির সময়কাল অনুযায়ী বিবেচনা করা উচিত; ২০২৬ সালের মাঠপর্যায়ের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান হিসেবে নয়।
বন দখল সবসময় খালি জমি দখল দিয়ে শুরু হয় না। কোথাও বসতি, কোথাও কৃষি, কোথাও ফলবাগান, কোথাও রাস্তা বা স্থাপনা, আবার কোথাও বাণিজ্যিক ভূমি–ব্যবহারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বনভূমির চরিত্র বদলে যায়।
এর পেছনে রয়েছে ভূমির ওপর বাড়তি চাপ, জনসংখ্যা ও নগরায়ণ, ভূমির মূল্য বৃদ্ধি, জীবিকার অনিশ্চয়তা, কৃষি ও বাগানের সমপ্রসারণ, শিল্প ও অবকাঠামোর চাহিদা, ভূমি–রেকর্ডের জটিলতা এবং দুর্বল নজরদারি ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়।
এখানে একটি নৈতিক পার্থক্য জরুরি। ভূমিহীন মানুষের আশ্রয়ের প্রয়োজন এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সংগঠিত বনদখল একই সমস্যা নয়। দুটিকে এক করে দেখলে যেমন মানবিক বাস্তবতা উপেক্ষিত হয়, তেমনি প্রকৃত দখলদাররাও আড়ালে থেকে যেতে পারে।
চট্টগ্রামে শিল্পায়ন প্রয়োজন; কিন্তু শিল্পায়নের জন্য প্রাকৃতিক বনভূমি বেছে নেওয়া প্রয়োজন নয়। প্রথমে অবক্ষয়িত, অব্যবহৃত ও পরিবেশগতভাবে কম সংবেদনশীল জমি ব্যবহারের নীতি গ্রহণ করা উচিত।
পাহাড়ের বন মানেই মাটি ও পানির সুরক্ষা
পাহাড়ি বনের আরেকটি অমূল্য সম্পদ হলো পানি। বনমাটি বৃষ্টির পানি ধারণ করে, গাছের শিকড় মাটিকে আঁকড়ে রাখে এবং উদ্ভিদ–আবরণ বৃষ্টির সরাসরি আঘাত ও পৃষ্ঠপ্রবাহের গতি কমায়। ফলে মাটিক্ষয় কমে এবং পাহাড়ি ছড়া, ঝিরি ও ক্ষুদ্র জলধারার স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকার সুযোগ তৈরি হয়। তাই চট্টগ্রামের পাহাড় কেটে বন সরিয়ে দিলে শুধু গাছ হারায় না; বদলে যায় পাহাড়ের মাটি, পানি ও স্থিতিশীলতার স্বাভাবিক সম্পর্ক। অতিবৃষ্টির সময়ে এর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। এই কারণে বলা যায়–পাহাড়ের বন আসলে পানিরও বন।
জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে বনের মূল্য আরও বেশি
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি, তীব্র তাপ, আকস্মিক জলপ্রবাহ ও ভূমিধসের মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রকৃতিনির্ভর ব্যবস্থা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একটি সুস্থ বন একই সঙ্গে কার্বন সঞ্চয় করে, স্থানীয় তাপ প্রশমিত করে, বৃষ্টির পানি ধারণে সহায়তা করে, মাটিক্ষয় কমায় এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে।
তবে বৃক্ষরোপণ আর জলবায়ু অভিযোজন এক বিষয় নয়। কয়েক হাজার চারা লাগানো এবং একটি পরিণত, বহুস্তরীয় প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ করা সমতুল্য নয়। জলবায়ু–সহনশীলতা তৈরির জন্য দরকার সুস্থ, সংযুক্ত ও কার্যকর বাস্তুতন্ত্র।
সংরক্ষণে মানুষকে অংশীদার করতে হবে
চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর পার্বত্য অঞ্চলে বন বিভাগ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও উন্নয়ন সহযোগীদের অংশীদারিত্বে সহ–ব্যবস্থাপনা, বন পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জীবিকা–সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগ হয়েছে।
চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের জলাধার সহ–ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের দ্বিতীয় পর্যায় ২০২৪ সালে শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে ২২৬টি পাড়াবন বা মৌজাবন (Village Common Forest) ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, ৬৯,৩০৬ হেক্টর বনভূমিকে উন্নত প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা এবং ৬১৭টি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের তথ্য রয়েছে। একই কর্মসূচিতে ২.৪৫ লাখের বেশি মানুষ জলবায়ু–সহনশীল জীবিকার সুবিধা এবং ১.৪৮ লাখের বেশি মানুষ সংরক্ষণ–সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতার বড় শিক্ষা হলো– মানুষকে বন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে নয়, বরং অধিকার, দায়িত্ব ও সুবিধার ন্যায্য কাঠামোর মাধ্যমে মানুষকে বন সংরক্ষণের অংশীদার করেই দীর্ঘস্থায়ী ফল পাওয়া সম্ভব।
পর্যটন হবে, কিন্তু বনের বিনিময়ে নয়
সীতাকুণ্ড, চন্দ্রনাথ, মীরসরাই, বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া ও অন্যান্য পাহাড়ি ভূদৃশ্য চট্টগ্রামের প্রকৃতিনিভর্র পর্যটনের অসাধারণ সম্পদ। কিন্তু পর্যটনের নামে পাহাড় কাটা, বন পরিষ্কার, ছড়া দখল, প্লাস্টিক দূষণ বা অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণ চলতে থাকলে একসময় পর্যটনের মূল আকর্ষণই হারিয়ে যাবে। তাই মূলনীতি হওয়া উচিত প্রকৃতি পর্যটনের সম্পদ; পর্যটন প্রকৃতির মালিক নয়।
এখন প্রয়োজন সমন্বিত বন–পাহাড়–পানি ব্যবস্থাপনা
চট্টগ্রামের বন রক্ষায় বিচ্ছিন্ন প্রকল্প যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, যেখানে বন, পাহাড়, পানি, জীববৈচিত্র্য, নগরায়ণ, শিল্প, কৃষি ও পর্যটনকে একই ভূদৃশ্যের পরস্পরনির্ভর অংশ হিসেবে দেখা হবে।
এর জন্য প্রয়োজন হালনাগাদ ডিজিটাল বন–সীমা ও ভূমি–রেকর্ড; উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভূ–তথ্যব্যবস্থায় নিয়মিত নজরদারি; প্রাকৃতিক বন ও বনায়নের আলাদা হিসাব; বন–স্বাস্থ্যের সূচক হিসেবে প্রজাতি বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম, মাটির স্বাস্থ্য, কার্বন ও বনখণ্ডীকরণ বিবেচনা; গুরুত্বপূর্ণ পাহাড় ও জলধারাকে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে সুরক্ষা; শিল্পের জন্য অবক্ষয়িত জমিকে অগ্রাধিকার; এবং বন বিভাগ, ভূমি প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কার্যকর সমন্বয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, স্থানীয় মানুষকে শুধু ‘উপকারভোগী’ নয়, সহ–ব্যবস্থাপক ও অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
শেষ কথা
চট্টগ্রামের পাহাড় কোনো অনাবাদি জমি নয়। বন কোনো কাঠের গুদাম নয়। ছড়া কোনো অপ্রয়োজনীয় জলধারা নয়। এগুলো মিলেই গড়ে উঠেছে চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক নিরাপত্তাবলয়, জলবায়ু–সহনশীলতার ভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ বাসযোগ্যতার সবুজ অবকাঠামো।
একটি গাছ কাটা যায় কয়েক মিনিটে, একটি পাহাড়ের ঢাল বদলে দেওয়া যায় অল্প সময়েই; কিন্তু একটি পরিণত বন তৈরি হতে লাগে বহু দশক। হারিয়ে যাওয়া এই প্রাকৃতিক মূলধন অর্থ ব্যয় করলেই সহজে ফিরিয়ে আনা যায় না।
তাই চট্টগ্রামের উন্নয়নের দর্শন বদলাতে হবে–বনকে জমি নয়, জীবন্ত প্রাকৃতিক মূলধন; পাহাড়কে নির্মাণের বাধা নয়, প্রাকৃতিক নিরাপত্তাবলয়; আর ছড়া–ঝিরিকে অতিরিক্ত পানি নয়, পাহাড়ের জীবন্ত জলশিরা হিসেবে দেখতে হবে।
চট্টগ্রামের সবুজ বলয় যতদিন অটুট থাকবে, ততদিন এই নগর শুধু সুন্দর নয়–আরও নিরাপদ, সহনশীল, জলবায়ু–প্রস্তুত এবং বাসযোগ্য থাকবে।
লেখক: প্রফেসর, বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।












