আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এর মধ্যে জে এম সেন হল পূজামণ্ডপকে ৫ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পূজা উদ্যাপন পরিষদের জামালখানস্থ কুসুমকুমারী পূজামণ্ডপকে ১৫ লাখ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের চারটি সেবক কলোনির হরিজন সমপ্রদায়ের জন্য প্রতিটি কলোনিতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৬ থানার ২৯৪টি পূজামণ্ডপকে জেনারেটরের জ্বালানি খরচ বাবদ প্রতিটি মণ্ডপে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকলে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৯৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
এসময় মেয়র বলেন, সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সবার শহর। ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। একটি সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নগরীকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সমপ্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন দৃঢ় করে। চট্টগ্রাম একটি সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির নগরী। এ নগরীতে সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় যার যার, কিন্তু নগরী সবার। তাই নগরীর উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, একটি সেফ সিটি গড়ে তোলার অর্থ শুধু অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা নয়, বরং এমন একটি নগরী তৈরি করা, যেখানে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন এবং সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন। এ জন্য নগরীর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. শাহাদাত বলেন, নগরীর সব ধর্মীয় ও সামাজিক সমপ্রদায়ের ন্যায্য দাবি ও প্রয়োজনের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন আন্তরিক। নাগরিকদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা হবে। ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি বলেন, নগরীর পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মেয়র বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর নির্ভর করে একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নগরবাসীকেও যেখানে–সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে। পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে, যা ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক নগরীর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখতে পারেন।
ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সড়কের মিড–আইল্যান্ডে গাছ লাগানো, সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব নগর অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব স্থাপনা ও নাগরিক সুবিধা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। শহরকে নিজের মনে করতে হবে, কারণ এই শহরের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনযাত্রার মান এর পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল।
মেয়র বলেন, নগরীর উন্নয়ন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক অর্জন নয়, এটি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নগরীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। নাগরিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন, থিয়েটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক অভীক ওসমান, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, সহসভাপতি বিপ্লব কুমার চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন টুটুল, প্রিয়তোষ ঘোষ রতন, অয়ন ধরসহ মহানগরীর বিভিন্ন থানার পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া লিটন কুমার শীল, দীপক দাশ, ডা. দেবাশীষ দাশ, শিমুল দে, রতন দাশ, সাজু মহাজন, সমীরণ দাশ ও লিংকন দেবনাথসহ মহানগরীর ২৯৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন।











