নগরীতে গ্যাসের আরো দেড় লাখ প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ

পেট্রোবাংলা থেকে চাহিদা চাওয়া হয়েছে জাপানি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে আলোচনা শুরু অপচয় ও চুরি ঠেকাতে ভূমিকা রাখবে

হাসান আকবর | বৃহস্পতিবার , ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে গ্যাসের দেড় লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে সরকার। পেট্রোবাংলা থেকে চট্টগ্রামে গ্যাসের প্রিপেইড মিটারের চাহিদা চাওয়া হয়েছে। একইসাথে ঢাকার তিতাস এবং কুমিল্লার বাখরাবাদেও গ্যাসের প্রিপেইড মিটার স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশে নতুন করে ৬ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনে জাপানের একটি ব্যাংকের সাথে ঋণ নিতে আলাপ আলোচনাও শুরু হয়েছে। আবাসিক খাতে গ্যাসের বিপুল পরিমাণ অপচয় ও চুরি ঠেকাতে নতুন করে ৬ লাখ মিটার স্থাপন করার সরকারি উদ্যোগ বলেও সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, আবাসিক খাতে গ্যাসের চুরি, অবৈধ এবং চোরা সংযোগ ঠেকানোর পাশাপাশি অপচয় রোধ করতে সরকার বেশ কয়েকবছর আগ থেকে প্রিপেইড মিটার সিস্টেম চালু করে। প্রথম দফায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৬০ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। জাপান সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সহায়তায় ওই ৬০ হাজার মিটার স্থাপন করা হয়। জাপান থেকে আনা প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পর সংশ্লিষ্ট গ্রাহকেরা বেশ স্বস্তি পান। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিও আর্থিকভাবে লাভবান হয়। গ্যাস বিক্রির আগেই ব্যাংকে টাকা চলে আসছে, বকেয়া বিলের জন্য অভিযান চালাতে হচ্ছে না, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হচ্ছে না। বিষয়টিকে বেশ ইতিবাচক হিসেবে নেয়া হয়। একইসাথে গ্যাসখাতে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হতে শুরু করে। চুলা না জ্বালালে কোন বিল আসছে না। আবার নিজেরাও ইচ্ছে করলে বিল সাশ্রয় করতে পারছে। পোস্টপেইড চুলা থেকে প্রিপেইড মিটারে খরচ অনেক কমে যাওয়ায় নগরীর হাজার হাজার গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে। ৬০ হাজার মিটার স্থাপনের অভাবনীয় সাফল্যের পর কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি নতুন করে এক লাখ প্রিপেইড স্থাপনের আগে গ্রাহকদের মধ্যে আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করে। এতে ব্যাপক সাড়া পড়ে। প্রকল্প গ্রহণের আগেই অন্তত ৯২ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের জন্য আবেদন করেন। গ্রাহকদের আগ্রহে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি নতুন করে ১ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের জন্য ২৪১ কোটিরও বেশি টাকার নতুন একটি প্রকল্প হাতে নেয়। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানসহ নানা প্রক্রিয়া শেষে জাপানের টয়োকিকি কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ দেয়া হয়। ইতোমধ্যে উক্ত প্রকল্পের ১ লাখ প্রি পেইড মিটার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে।

সূত্র বলেছে, ১ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রকল্পে নগরীর বিভিন্ন বস্তি এবং কলোনিগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল, যাতে গ্যাস চুরির মহোৎসব সম্পন্ন হতো। রেলওয়ে কলোনির বাসাগুলোতে একটি চুলা থেকে অন্তত দশটি পরিবারের রান্নাবান্না চলতো। ইপিজেড এলাকার বেশ কয়েকটি কলোনিতেও একই কায়দায় ব্যবহৃত হতো মূল্যবান গ্যাস। প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পর এসব চুরি ও অপচয় পুরোপুরি ঠেকিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করে সূত্র বলেছে যে, প্রিপেইড মিটার আবাসিক খাতের গ্যাস ব্যবহারে বড় ধরণের পরিবর্তন নিয়ে আসে। এজন্য কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি নগরীর অন্তত ছয় লাখ আবাসিক গ্রাহককেই প্রিপেইড মিটারের আওতায় নিয়ে আনতে আগ্রহী হয়ে উঠে।

নগরীতে ৬ লাখের মধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে। বাকি গ্রাহকদেরকে দ্রুত প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনতে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি নিজস্ব অর্থায়নে ৫০ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপনের তৃতীয় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এতে প্রায় ১১০ টাকা খরচ হবে।

কিন্তু গেলো সপ্তাহে পেট্রোবাংলা থেকে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কাছে প্রিপেইড মিটারের চাহিদা চেয়ে একটি পত্র দেয়া হয়। যাতে চট্টগ্রামে আর কত আবাসিক গ্রাহককে প্রি পেইড মিটারের আওতায় আনতে হবে তার বিস্তারিত হিসেব দিতে বলা হয়। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি আরো দেড় লাখ মিটার স্থাপনের একটি প্রকল্প গ্রহনের কথা জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে যে, সরকার মোট ৬ লাখ প্রি পেইড মিটার স্থাপনের নয়া একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যাতে চট্টগ্রামে দেড় লাখ, ঢাকায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসিকে এক লাখ এবং কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে সাড়ে তিন লাখ প্রি পেইড মিটার স্থাপন করা হবে।

এতে দেড় হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ খরচ হবে বলে উল্লেখ করে সূত্র বলেছে যে, জাপান ব্যাংক অফ ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন (জেবিক) ব্যাংকের সাথে এই প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। সহজ শর্তে এই ঋণ পাওয়া গেলে জাপান থেকে ঋণ নেয়া হবে। কিন্তু কোন কারণে জাপানের ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া না গেলে বিকল্প অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করে সূত্র বলেছে যে, গ্যাস চুরি এবং অপচয় ঠেকাতে সরকার প্রকল্পটিকে অত্যাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন করে দেড় লাখ প্রি পেইড মিটার স্থাপিত হলে চট্টগ্রামের আবাসিক খাতের গ্যাস চুরি ও অপচয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাতকানিয়ার লোকালয়ে ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ শকুন উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধসুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা দূর করতে হবে : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য