দেশে মাঙ্কিপক্সের কোনো রোগী নেই

গুজবে সতর্ক করল বিএসএমএমইউ

| বুধবার , ২৫ মে, ২০২২ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

দেশে ভাইরাসজনিত রোগ মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত কেউ শনাক্ত হয়নি জানিয়ে এমন খবরকে ‘গুজব’ বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। গতকাল শহীদ ডা. মিল্টন হলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মাঙ্কিপক্সের চিকিৎসায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে গুজব বা আতঙ্ক এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সোমবার বিকালের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঙ্কিপক্সের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যা ছিল নিছক একটি গুজব। শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, দেশেও এখন পর্যন্ত মাঙ্কিপক্সের আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। খবর বিডিনিউজের।

সাধারণত পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সর্বপ্রথম বানরের দেহে শনাক্ত হওয়া এ রোগটি ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর আগে আফ্রিকার বাইরে দেখা যায়নি। সমপ্রতি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের এক ডজনের বেশি দেশে ভাইরাসজনিত রোগ মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এর প্রতিরোধে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নৌ ও স্থলবন্দরগুলোতে আক্রান্ত দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ওপর সজাগ দৃষ্টি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করতে বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গুটিবসন্তের টিকা মাঙ্কিপক্স থেকে ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দেয় জানিয়ে অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, মাঙ্কিপক্সের ৯০ শতাংশ রোগী ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। গুটিবসন্তের টিকা বন্ধ করা এর একটি কারণ হতে পারে।

এর লক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, জ্বরের সাথে ঠান্ডা লাগা, ঘাম, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, শ্বাসকষ্ট এবং কাশি হয়ে থাকে। জ্বরের পরে ২-৩ দিনের মধ্যে ঘাড়ের চারদিকে লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথি (গ্রন্থি ফুলে যাওয়া) দেখা যায়। এক থেকে ১০ দিনের মধ্যে ফুসকুড়ি তৈরি হয়। ফুসকুড়ি প্রায়ই মুখে শুরু হয় এবং তারপর শরীরের বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এটি দুই থেকে চার সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে। এগুলো মুখমণ্ডল, শরীর, হাত-পা এবং মাথার ত্বকে হয়ে থাকে। হাতের তালু এবং পায়ের পাতায় ক্ষত দেখা যেতে পারে। এগুলি ব্যথাহীন হয়। যদি ব্যথা থাকে, তাহলে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে চুলকানি থাকতে পারে। এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে আক্রান্ত বা সন্দেহযুক্ত প্রাণীর সংস্পর্শে যাওয়া বন্ধ রাখা, প্রাণীর কামড়, আঁচড় এবং লালা বা প্রস্রাবের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। রোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি করে ক্ষত শুকানো পর্যন্ত আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।