দেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না : রাষ্ট্রপতি

| সোমবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর থাকবে না’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।

প্রতিটি গুমের ঘটনায় জড়িত অপরাধীরা ক্ষমতাবান হলেও দেশে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে জোর দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে। এই দেশে ফ্যাসিবাদের সেই অন্ধকার অধ্যায় আমরা চিরতরে বন্ধ করব। রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রের আরেকটি পবিত্র দায়িত্ব গুমের শিকার এই পরিবারগুলোর আন্তরিকভাবে পাশে দাঁড়ানো। আমি বিশ্বাস করি, সরকার ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, আরও করবে। খবর বিডিনিউজের।

সম্মিলিতভাবে এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি যেখানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সাম্য ও মর্যাদা হবে রাষ্ট্রের ভিত্তি। সুশাসন হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি। জবাবদিহিতা ও বাক স্বাধীনতা হবে গণতন্ত্রের শক্তি এবং ইনসাফ হবে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। গুম ও বিচারহীনতার অন্ধকার পেরিয়ে বাংলাদেশ যেন সত্য, ন্যায়, মানবাধিকার ও মানবিকতার পথে এগিয়ে যায়, সে প্রত্যাশার কথাও বলেন তিনি।

বাংলাদেশচীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা তাদের আর্তি তুলে ধরেন এবং গুমে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।

গুমের নির্মম শিকার সকল ব্যক্তি, পরিবার স্বজন ও সহযোগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, গুমখুনের শিকার সকল মানুষের পবিত্র স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। আমি তাদের রুহের চির শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করছি। রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। গুম শুধু একটা মানুষকে কেড়ে নেয় না, কেড়ে নেয় প্রিয়জনদের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন, অর্থনৈতিক সামাজিক স্বস্তি। এটা জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ব্যক্তির স্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুমখুনের মাধ্যমে কার্যত সেই অধিকারগুলোর সব কটিকে একসঙ্গে ভূলুণ্ঠিত করা হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই গুম, গোপন বন্দিশালা আয়নাঘরের দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। যারাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, ভিন্নমত পোষণ করেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য যখন আন্দোলন করেছেন তখনই তাদের জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে, গোপনে খুন করা হয়েছে হয়েছে। অথচ ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবাহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই গুরুতর অপরাধকে সর্বদা অস্বীকার করে গেছে।

এ সময় তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, একটি ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলামসহ অগণিত মানুষের কথা স্মরণ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, আইনজীবী ব্যারিস্টার অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল আযমীসহ বিভিন্ন মতালম্বী কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, এমনকি গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিককে বছরের পর বছর অন্ধকার, স্যাঁতস্যাঁতে আলোবাতাসহীন আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রতিমুহূর্ত ছিল তাদের মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধীদের প্রকৃত আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। যেসব পরিবার বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় সীমাহীন অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট, মানসিক যন্ত্রণা বহন করেছে তাদের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে, গ্রহণ করতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহজের নিবন্ধনে সাড়া কম, কোটা অপূর্ণ থাকতে পারে এবারও
পরবর্তী নিবন্ধসেবা কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো যুক্ত হলে দুর্নীতির সুযোগ কমে : অর্থমন্ত্রী