দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাই : শেখ হাসিনা

প্রমত্তা পদ্মায় সেতু করাটাই ইতিহাস

| সোমবার , ৪ জুলাই, ২০২২ at ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি তার দল দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করাই তার সরকারের লক্ষ্য। এছাড়া তিনি পৃথিবীর অন্যতম খরস্রোতা নদী পদ্মায় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সেতু নির্মাণকে একটি ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনাও করেছেন। গতকাল রোববার মন্ত্রণালয় এবং বিভাগগুলোর ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক কর্মসম্পাদন
চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরকার প্রধান ঢাকার ওসামানী স্মৃতি মিলনায়তনের মূল অয়োজনে বক্তব্য রাখেন। খবর বিডিনিউজের।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি, সেটা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা রাজনীতি করি দেশের জনগণের জন্য। আমার নির্বাচনে অংশগ্রহণকালে ঘোষণা করা দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশকে আর্থসামাজিকভাবে এগিযে নিয়ে যাওয়ার কর্মপরিকল্পনা থাকে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার আশু, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নির্দিষ্ট করে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং দীর্ঘ মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় করণীয় নির্দিষ্ট করে বলে জানান তিনি।
২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে তুলে আনতে পারার কথা বলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রমত্তা পদ্মার বুকে সেতু তৈরি করাটাই একটি ইতিহাস। সেক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী এবং সচিব যারা ছিলেন, অর্থ বরাদ্দে এতটুকু কার্পণ্য করেননি; বরং কীভাবে আমরা নিজেদের টাকায় করতে পারি, সে জিনিসটি আরও সহজ করে দিয়েছেন।
সেজন্য অর্থমন্ত্রণালয়সহ মন্ত্রিপরিষদের সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ২০১২ সাল থেকেই তো এই যুদ্ধ শুরু। কত অপবাদ, ষড়যন্ত্র এর জন্য মোকাবিলা করতে হয়েছে। আর সব থেকে দুঃখজনক যে আরও আগে সেতুর কাজ শুরু করা গেলে আরও আগেই শেষ করা সম্ভব হত। আরেকটি বিষয় আমার কাছে অবাক লাগে- আমাদের কিছু অর্থনীতিবিদ এবং জ্ঞানী-গুণীরা যে বলেছিল, এটা ভায়াবল হবে না, কে এখান থেকে চলবে, কোনো টাকা উঠবে না। কিন্তু এখন কী দেখা যাচ্ছে?
পদ্মা সেতু হওয়ায় মানুষের জীবন ও জীবিকার আমূল পরিবর্তন ঘটবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু তৈরির আগে প্রতিবছরই উত্তরবঙ্গে মঙ্গা দেখা দিত, অথচ এই একটি সেতু নির্মাণের পর সেখানের মঙ্গা আর নেই। সেখানে পদ্মা সেতুর দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সাপ্লাই চেইন স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইলিশের মওসুম এসে যাওয়ায় রাজধানীতে বসেই তাজা ইলিশ প্রাপ্তিও সম্ভব হবে, অন্যদিকে জেলেরাও লাভবান হবে।