দুর্গোৎসব শুরু, মুখর পূজামণ্ডপ

দুদিনের মহাসপ্তমী আজ থেকে

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ

ঢাকের আওয়াজ, শিউলি ফুলের গন্ধ আর কাশফুলের দোলা জানান দিচ্ছে বাঙালি হিন্দু সমপ্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব–শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। গতকাল মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণ বা বোধনের মধ্যদিয়ে ছয় দিন দিনব্যাপী সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ষষ্ঠীতে সন্ধ্যা থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয় ঢাক ও কাঁসর বাদ্য। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছে। শঙ্খধ্বনিতে মুখর মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। দেবী দুর্গার আগমনী সুরে উলুধ্বনি দিয়ে মেতে উঠেছেন ভক্তরা। আনন্দের আবহে আজ ও কাল সারাদেশে সাড়ম্বরে উদযাপিত হবে উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘মহাসপ্তমী’।

মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকার আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে, এতে দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে নয়টি উদ্ভিদকে স্নান করিয়ে পূজা করা হয়। গতকাল ষষ্ঠীতে মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বোল, চন্ডীপাঠ আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ; যেন আনন্দ আর ভক্তির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। অশুভ শক্তির বিনাশ আর শুভ শক্তির আবাহনে চারদিকে এখন শুধু উৎসবের আমেজ। আগামী বুধবার বিজয়া দশমী পর্যন্ত ছয় দিন ঢাকঢোল ও কাঁসরের বাদ্যে মুখর থাকবে পূজামন্ডপগুলো।

সোমবার উদযাপিত হবে মহাঅষ্টমী, যার বিশেষ আকর্ষণ হলো ‘সন্ধিপূজা’ যা অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন মহানবমীতে পূজার শেষ ধাপের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে এবং দেবীকে ‘ভোগ’ নিবেদন করা হবে। উৎসবের শেষ দিনে মহা বিজয়া দশমী। বিজয়া দশমীতে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন এবং প্রতিমা বিসর্জনের জন্য শোভাযাত্রা সহকারে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যাওয়া হবে।

এবার দেবী দুর্গা আসছেন ঘোটকে (ঘোড়ায়)। বিদায় নেবেন নৌকায়। হিন্দু শাস্ত্রমতে, শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্ত্যলোকে আসছেন। অসুর শক্তির কাছে পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হয়েছিলেন। এই অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে একত্র হন দেবতারা। অসুর শক্তির বিনাশে অনুভূত হলো এক মহাশক্তির আবির্ভাব। দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হলেন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা মতে, জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আগমন করবেন। এবার ফসল ও শস্যহানির আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, দেবী নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে গমন করবেন। এর ফলে শস্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ রয়েছে। গতকাল শারদীয় দুগাপূজার মহাষষ্ঠীতে নগরীর পূজা মণ্ডপগুলো বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং শৈল্পিক থিমের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপে সেজে ওঠে। গতকাল সন্ধ্যা থেকে সকল মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনে ভক্তদের ঢল নামে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে ভক্তদের প্রতিমা দর্শন। ঢাকঢোল ও কাঁসরের বাদ্যে মুখর হয়ে ওঠে প্রতিটি পূজামণ্ডপ।

জেএমসেন হলে ব্যাপক উৎসাহ : ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে গতকাল নগরীর জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষষ্ঠী উদযাপিত হয়। মহাষষ্ঠী তিথিতে সন্ধ্যা ৬ টায় প্রতিমা মঞ্চের আবরণ উন্মোচন ও সন্ধ্যারতি উন্মোচন করেন ঋষিধাম, বাঁশখালী ও তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ। পূজা পরিষদের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক অর্পন কান্তি ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন, চট্টগ্রামের সহকারী হাই কমিশনার শ্রী হরিশ কুমার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এড. নিখিল কুমার নাথ। এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সাবেক সভাপতি সাধন ধর, বিদ্যালাল শীল, অরবিন্দু পাল অরুন, এড. চন্দন তালুকদার, পরিষদের সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রত্নাকর দাশ টুনু, শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত, হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম সচিব বিশ্বজিত দত্ত বাবু, পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক এড. নটু চৌধুরী, বিপ্লব সেন, চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গ আশ্রমের সম্পাদক সুজন ঘোষ বাদশা, আনন্দময়ী কালী মন্দিরের সম্পাদক সুজন দাশ বাদশা, অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন টুটুল, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক অঞ্জন দত্ত, দীপংকর দেবনাথ, প্রিয়তোষ ঘোষ রতন, রিপন রায় চৌধুরী, শুভজিত দাশ, এড. রাজেশ বিশ্বাস, অধ্যাপক অসীম কুমার দে, রাজন দাশ, অমিত ঘোষ, সবুজ দাশ, ডা: নেহেরুলাল ধর, প্রিয়তোষ বল, এড. শ্যামল চৌধুরী, অয়ন ধর, বিবেক দেব, কুশন সেন প্রমুখ। রাত ১০ টায় মায়ের অধিবাস হয়।

দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিলো কীর্তিকা নৃত্যালয় ও নৃত্যময়ী একাডেমির পরিবেশনায় নৃত্যানুষ্ঠান, স্পন্দন কালচারাল ইন্সটিটিউট, বিবেকানন্দ সঙ্গীত নিকেতন, মূর্ছনা সঙ্গীত একাডেমি ও কল্কি ব্যান্ডদলের পরিবেশনায় বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান।

আজ মহাসপ্তমীর আয়োজনে রয়েছে দুপুর ১.৩০ মিনিটে জাগরণ পুঁথি পাঠ পরিবেশনায় প্রবীর নন্দী ও তার দল, বিকাল ৩.৩০ টায় বংশী শিল্পকলা একাডেমি, বাঁশরী নজরুল চর্চা কেন্দ্র, অনন্যা সঙ্গীত নিকেতন, প্রারম্ভিক সঙ্গীত নিকেতন, আনন্দধারা সঙ্গিত ভুবন, সুরানন্দ পরিচালনায় বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান, সন্ধ্যা ৬.৩০ টায় সন্ধ্যারতি, সন্ধ্যা ৭.৩০ টায় বেতার টেলিভিশন শিল্পীদের বিশেষ সঙ্গীতাঞ্জলি। পরিবেশনায় মিতালী রায়, সুপ্রিয়া মজুমদার লাকি, অনুপম দেবনাথ পাভেল, অমিত সেন গুপ্ত।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৫ বছর ধরে অচল, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি
পরবর্তী নিবন্ধ৫ দিনেই চাকরি গেল হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কেটি জাকারিয়ার