আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম–ঢাকা–কঙবাজার–ঢাকা রুটে তিন দিন (২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর) বিশেষ ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম–ঢাকা–কক্সবাজার রুটের পাশাপাশি যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন রুটের ট্রেনেও অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মামুনুল ইসলাম, পিইঞ্জ। তিনি বলেন, পূজার ছুটিতে পর্যটন নগরী কঙবাজার–সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন রুটে ট্রেনে যাত্রীর চাপ বাড়বে। এ লক্ষ্যে ঢাকা–চট্টগ্রাম–কঙবাজার রুটে আমরা একটি স্পেশাল ট্রেন চালাবো। এছাড়াও সিলেট রুটের ট্রেনসহ বিভিন্ন রুটের ট্রেনে আমরা অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করবো।
এদিকে পূজার ছুটিতে তিন দিনব্যাপী বিশেষ ট্রেনের পাশাপাশি বিভিন্ন রুটে চলাচলরত ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের ফলে কোথাও কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আটটি স্টেশনে রিলিফ ইঞ্জিন প্রস্তুত রাখা হবে বলেও রেলভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা, বিনা টিকিটে স্টেশনে প্রবেশ, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ ও নাশকতা ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। রেলভবনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত সোমবার প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় রেলের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন দুর্গাপূজার তিন দিনের (২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর) ছুটি ও শুক্র–শনিবার (২৩ ও ২৪ অক্টোবর) সাপ্তাহিক দুদিনসহ পাঁচ দিন ছুটি থাকছে। এই উপলক্ষ্যে পর্যটন নগরী কক্সবাজার–সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন রুটে ট্রেনে যাত্রীর চাপ সীমাহীন বাড়বে। বিষয় বিবেচনা করে রেল কর্তৃপক্ষ আগে–ভাগেই বিশেষ ট্রেন চলানোর পাশাপাশি ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের ব্যবস্থা নিয়েছে।
রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রেল ভবনের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূজার ছুটিতে চট্টগ্রাম–ঢাকা–কক্সবাজার–ঢাকা রুটে ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কোরীয় কোচের (বগি) সমন্বয়ে গঠিত রেক দিয়ে বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে। এ জন্য বিশেষ ট্রেনের সময়সূচি, রেক ও ইঞ্জিনের সমন্বয়সহ আনুষঙ্গিক পরিকল্পনা করবে রেলের পূর্বাঞ্চল। যাত্রীর চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। রেলের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকদের পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রেক নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হলে যাতে দীর্ঘ সময় চলাচল বন্ধ না থাকে, সে জন্য টঙ্গী, ময়মনসিংহ, আখাউড়া, লাকসাম, কুলাউড়া, ঈশ্বরদী, পার্বতীপুর ও রাজবাড়ীতে রিলিফ ইঞ্জিন প্রস্তুত রাখা হবে। যমুনা সেতুর কাছেও সুবিধাজনক একটি স্টেশনে রিলিফ ইঞ্জিন রাখতে বলা হয়েছে। পণ্যবাহী ও কনটেইনার ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন সরবরাহ নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ট্রেনের অফ–ডে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও হয়েছে। ট্রেনের অতিরিক্ত রেক ঠিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সভায় রেলওয়ের মহাপরিচালক এসব সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন বলে সভা সূত্র জানিয়েছে।










