লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার সীমান্তবর্তী স্থানে টংকাবতী খালটি ডলু খালের সাথে মিশেছে। টংকাবতীর সাথে আবার বোয়ালিয়া খালের স্রোতও মিশে একাকার। এই স্থানটি তিন খালের মুখ বা ‘টর মুখ’ হিসেবে খ্যাত। দীর্ঘদিন ধরে লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার অধিবাসীরা প্রতিকূল অবস্থা অতিক্রম করে যাতায়াত করে আসছেন। কয়েক বছর আগে টর মুখে এলাকাবাসীরা একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন। বর্ষাকালে পানি বেড়ে গেলে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবী দীর্ঘদিনের। বহুবার বহুস্থানে আবেদন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের চোখের জলের সাথে খালের পানি মিশে একাকার হয়েছে। তবু নির্মিত হয়নি ব্রিজ।
জানা যায়, লোহাগাড়া বটতলী মোটর স্টেশন অতিক্রম করে উপজেলার সর্বদক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত কেয়াজুপাড়া, ফারেঙ্গা, পানত্রিশা এমনকি লামা উপজেলার অধিবাসীরা দরবেশহাট ডিসি রোড ও স্কুল রোড হয়ে সাতকানিয়া সদরে যাতায়াত করতেন। অবিভক্ত সাতকানিয়া বিভক্ত হয়ে ৯ ইউনিয়ন নিয়ে ৮০’র দশকে লোহাগাড়া উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্থায়ী কাঠামোর উপরে একটি ব্রিজ নির্মিত হলে ঘোর পথে লোহাগাড়া সদর ও সাতকানিয়া সদরের সাথে দূরত্ব কমে যেত। মানুষের সৌভাগ্যের সুবর্ণ রেখা প্রসারিত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হতো। ব্রিজটি হবে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষের অন্যতম সেতুবন্ধন। ২০১৮ সালের ২০ জানুয়ারি দক্ষিণ সাতকানিয়া গোলামবারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বীরবিক্রম পিএসসি আশার বাণী শুনিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অনতিবিলম্বে ব্রিজটি নির্মিত হবে। কবে নাগাদ এ কার্যক্রম শুরু হবে তা অবশ্য এলাকাবাসীরা জানতে পারেননি। তারা আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, উত্তর আমিরাবাদের বিস্তৃর্ণ অঞ্চলে বর্তমানে প্রচুর রবিশষ্য উৎপাদিত হয়। ধান চাষাবাদ হয়। অপরদিকে, টংকাবতীর অপর পাড়ে বারদোনাসহ সাতকানিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে রবিশষ্য উৎপাদিত হয়। এলাকাবাসীরা এসব পণ্য যথাসময়ে বাজারজাত করতে পারেন না বলে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অনেক বিচারপ্রার্থী জানায়, বর্তমানে সাতকানিয়া চৌকিতে উচ্চ আদালতের চৌকি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালতে যাতায়াত করতে হলে দক্ষিণ-পূর্ব লোহাগাড়ার লোকজনকে লোহাগাড়া বটতলী হতে যানবাহনে প্রথমে সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা অতিক্রম করে ডলু ব্রিজ পর্যন্ত যেতে হয়। ফলে সময়ের অপচয় হয়। দুর্ভোগ বাড়ে। অনেক সময় বিচারপ্রার্থী দুর্ঘটনায় পতিত হন। যথাসময়ে আদালতে উপস্থিত হতে পারেন না।
এলাকাবাসী জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে সাতকানিয়া কাচারী মাঠে এক জনসভায় ৬ দফা প্রচারে এসেছিলেন। তাঁকেও তখন টংকাবতীর মানুষের দুর্দশার কথা বলা হয়েছিল। দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭৩ সালে এম ছিদ্দিক নৌকার টিকেটে এমপি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের কোনো এমপি নির্বাচিত হননি। ২০১৩ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী পর দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর কাছেও ব্রিজ নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হোছাইন মুহাম্মদ শারফু জানান, তিন খালের মুখের এক প্রান্ত তাঁর নির্বাচনী ওয়ার্ডে। অন্যপ্রান্ত সাতকানিয়া উপজেলায়। ওইস্থানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবী দীর্ঘদিনের। সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে দুই উপজেলার মানুষই উপকৃত হবেন। যাতায়াতের পথ সুগম হবে। কমে যাবে ঘোর পথের দূরত্ব। কৃষকরা সহজে বাজারজাত করতে পারবে কৃষিপণ্য। তিন খালের মুখ এলাকায় একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করনে তিনি।
লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ইফরাদ বিন মুনীর বলেন, চলতি বছর তিন খালের মুখ এলাকায় ব্রিজ নির্মাণের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। ব্রিজের নকশার কাজ প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি খুব দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।











