ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের একটি ছয় তলা মেসবাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় বহু মানুষের আটকে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে পড়া অনেক শিক্ষার্থী ফোন করে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও আনন্দবাজার বলছে, রোববার দুপুর দেড়টার দিকে দক্ষিণ–পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় হোস্টেল ডেজ নামের ওই ভবনটি হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। মূলত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা ওই ভবনে ভাড়া থাকতেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকে আছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন আটকে থাকার আশঙ্কার কথা বলছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। রোববার ছুটির দিন হওয়ায় ঘটনার সময় বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ভবনে অবস্থান করছিলেন। আটকে পড়াদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (এইমস) ট্রমা সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাস্থলে থাকা বিজেপির বিধায়ক অনিল শর্মা সাংবাদিকদের বলেন, আটকে পড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ফোন করছেন। ঠিক কতজন ভেতরে আছেনু পাঁচ, দশ নাকি বিশ জনুতা বলা কঠিন। তবে সেখানে যে শিক্ষার্থীরা আটকে আছে, তা নিশ্চিত। পুলিশ জানিয়েছে, ৭৫ শয্যার ওই মেসবাড়ির মালিক থাকেন গুরুগ্রামে। ধসে পড়া ভবনের নিচে পার্ক করা বেশ কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ভবনটির বেজমেন্টে বা ভূগর্ভস্থ অংশে নির্মাণকাজ চলছিল, যা এই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
খবর পেয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। অন্তত ১২টি ফায়ার ইঞ্জিন ও এক্সক্যাভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। ভিড় সামলাতে দাঙ্গা পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের ভবনগুলো খালি করা হয়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনার জন্য দুর্নীতিকে দায়ী করেছে আম আদমি পার্টি (এএপি)। দলটির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লির (এমসিডি) ভবন নির্মাণ বিভাগে বদলি বাণিজ্যের কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, অডিটের নামে কোটি কোটি টাকা লুট করা হবে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলাবে না।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ও লেফটেনেন্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উদ্ধারকাজে সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তারা। দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ বলেছেন, সরকার নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আটকে পড়াদের নিরাপদে উদ্ধার করাই এখন প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।










