সিরিয়ায় বিদ্রোহী দুই সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘হায়াত তাহরির আল–শাম’ (এইচটিএস) এবং তাদের সহযোগী ‘জইশ আল–ইজ্জা’র যৌথবাহিনী ক্রমশ ঘিরে ফেলছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। গতকাল শনিবার বিদ্রোহীরা ঘোষণা করেন, দামেস্ক আমাদের অপেক্ষায় রয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী এইচটিএস–এর নেতা আবদেল ঘানি বলেন, দামেস্ক দখলের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে আমাদের বাহিনী। দামেস্কের বিভিন্ন শহরতলি ইতিমধ্যে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট দামেস্ক ছেড়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, প্রেসিডেন্ট দামেস্কেই অবস্থান করছেন। গতকাল প্রেসিডেন্ট বাশারের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু বিদেশি গণমাধ্যমে গুঞ্জন ও ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট দামেস্ক ছেড়েছেন বা দ্রুত অন্য দেশে চলে গেছেন। কিন্তু তা সত্য নয়। প্রেসিডেন্ট জাতীয় ও সাংবিধানিক কাজে ব্যস্ত রয়েছেন এবং রাজধানী দামেস্কেই আছেন।
গত শুক্রবার রাতে বিবৃতিতে স্থানীয় বিদ্রোহীরা জানান, তাদের বাহিনী দারা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আশেপাশে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। সেখানকার বড় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসগুলো দখলে নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণে আলেপ্পো, হামার পর হোমস ঘিরে রাখা সশস্ত্র সংগঠন হায়াত তাহরির আল–শাম (এইচটিএস) ও উত্তর থেকে আক্রমণ শুরু করা বিদ্রোহীরা একই গোষ্ঠী নয়। তবে তাদের সবাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তা পাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
এদিকে সিরিয়ায় বাশার সরকারকে সহযোগিতা করতে আসা সামরিক কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে ইরান। কুদস ফোর্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা সিরিয়া থেকে প্রতিবেশী ইরাক ও লেবাননে চলে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
গত কয়েক দিনে সিরিয়ার একের পর এক শহর দখল করছেন বিদ্রোহীরা। সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো এখন বিদ্রোহীদের দখলে। বিদ্রোহীরা অগ্রসর হওয়ায় পিছু হটছে সিরিয়ার সেনা।
গত ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে সিরিয়ায়। সেখানে যুক্ত রয়েছে বেশ কয়েকটি পক্ষ। ২০১১ সালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে মদত দিয়েছিল আমেরিকা। পরবর্তী সময়ে আইএসের বাড়বাড়ন্ত রুখতে নেটো বাহিনী হামলা চালিয়েছিল। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, গত কয়েক মাসে ইসরায়েলি বিমানহানায় আসাদ বাহিনীর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই দামেস্ক রক্ষার জন্য তাদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
‘আরব বসন্ত’ নামে পরিচিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জেরে ২০১১ সালে সিরিয়ায় আসাদবিরোধী আন্দোলন শুরুর পর থেকে আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের সবচেয়ে বড় মিত্র শিয়াপন্থি বাশার আল আসাদ। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, এতদিন সিরিয়ার স্থলপথ দিয়েই হিজবুল্লাহর কাছে ইরানের অস্ত্র পৌঁছাতো।
সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর এই দুর্দশার মধ্যে দেশের পূর্বাঞ্চলে হামলা শুরু করেছে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট কুর্দি বিদ্রোহীরাও। পূর্বাঞ্চলের শহর দেইর আল–জোর দখলের চেষ্টা করছে তারা। পূর্বাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলের একটি বড় অংশ কুর্দি স্বাধীনতাকামীদের দখলে।
সিরিয়ায় সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিবেশী জর্ডান ও লেবানন। গতকাল বৈরুত–দামেস্ক সংযোগ সড়ক ছাড়া সিরিয়া সীমান্তের সব স্থলবন্দর বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে লেবানন। গতকাল জর্ডানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ঘোষণা দিয়েছেন, সিরিয়া সীমান্তে সব ধরনের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।














