চট্টগ্রাম কাস্টমসে অনলাইন নিলামের দরপত্র জমাদানের শেষদিন সার্ভার জটিলতার কারণ দেখিয়ে পাঁচদিনের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে নিলাম শাখা। এর আগে গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনলাইনে দরপত্র জমা দেয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে। গত ১৩ দিন ধরে অনলাইনে দরপত্র নেয়া হয়। বিডাররা বলছেন, প্রায় বিডার আগেই দরপত্র জমা দিয়েছেন। তাই এই সময়ে সার্ভার জটিলতা থাকলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সরাসরি দরপত্র জমা নিতে পারত কাস্টমস। অতীতে এভাবে দরপত্র জমা নেয়ার ইতিহাস আছে। এতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি গোষ্ঠী লাভবান হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার (নিলাম শাখা) আবু সুফিয়ান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়েছে, ই–নিলাম নং–৭/২০২৬ জটিলতার কারণে ২২/০৭/২০২৬ বিকাল ৩ টার পরিবর্তে আগামী ২৭/০৭/২০২৬ পর্যন্ত বর্ধিত করা যেতে পারে।
জানা গেছে, ৫৫ লটে মোট ৭৫ কন্টেনার পণ্যের মধ্যে রয়েছে–বিভিন্ন ধরণের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, ফেব্রিঙ, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, ব্যাডমিন্টন র্যাকেট, এলিভেটর, এয়ার ফিল্টার, ক্রাফট লাইনার পেপার, ও লবণসহ অন্যান্য পণ্য। বিডারদের সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয় ১৩ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত। এছাড়া ১২ জুলাই থেকে ২২ জুলাই বিকেল ৩টা পর্যন্ত কাস্টমসের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দরপত্র জমা দেয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন সেটি আরো ৫ দিন বাড়ানো হয়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস নিলাম ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এয়াকুব চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস অনলাইনে দরপত্র জমা দেয়ার জন্য ১৩ দিন সময় নির্ধারণ করেছিল। আজ (গতকাল) ছিল শেষদিন। যারা বিড করার, তারা এই সময়ের মধ্যে বিড করেছেন। এসব ক্ষেত্রে শেষ দিনের জন্য কেউ অপেক্ষা করে না। আমাদের বিডারদের মধ্যে কেউ সার্ভার জটিলতার বিষয়ে অভিযোগ দেয়নি। তাহলে কেন সময় বাড়ানো হলো? কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চাইলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দরপত্র নিতে পারত।
তাহলে আর সময় বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল না। আমরা ধরে নিলাম– সার্ভার দুই–তিন ঘণ্টার জন্য ডিস্টার্ব ছিল, এক্ষেত্রে বড়জোর একদিন সময় বাড়ানো যায়। এভাবে ৫দিন সময় বাড়ানো যৌক্তিক নয়। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বিশেষকে সুবিধা দেয়া হচ্ছে, সেই ব্যাপারে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি।
উল্লেখ্য, আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে সরবরাহ নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় জব্দ পণ্যও নিলামে তোলা যায়। সর্বমোট ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার এই নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করতে পারেনি বন্দর ও কাস্টমস। এতে করে বন্দরের ইয়ার্ডে এসব কন্টেনার পড়ে থাকে। আমদানি পণ্য যথাসময়ে খালাস না নেয়ায় বন্দরগুলোতে প্রায়ই কন্টেনার জট লাগে। দিনের পর দিন কন্টেনার পড়ে থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষও চার্জ পায় না।












