থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হয়রানি

অভিযুক্ত নারীকে এক মাসের কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ at ৮:২২ পূর্বাহ্ণ

থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হয়রানি করার দায়ে এক নারীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দীন মাহমুদ এই রায় ঘোষণা করেন। বিবি মরিয়ম বেগম নামের দণ্ডপ্রাপ্ত ওই নারী নগরীর আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকার বাসিন্দা। আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর আকবরশাহ থানায় বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেনের ছেলে মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিবি মরিয়ম। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, মোক্তার হোসেন তার দুই ছেলে মো. ফয়সাল উদ্দীন ও ফাহাদ উদ্দীনকে মারধর এবং পরিবারকে হুমকি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে তখন জিডিটি আকবরশাহ থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এম সাকের আহমেদ ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। পুলিশের তদন্তে বিবি মরিয়মের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হয়।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং রাষ্ট্রপক্ষের লিখিত যুক্তিতর্ক অনুযায়ী, উত্তর কাট্টলী এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেনের মালিকানাধীন জমিটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছিল স্থানীয় সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন ও তার পরিবার। এই নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে উচ্চ আদালত বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেনের পক্ষে রায় বহাল রাখেন এবং নির্বিঘ্নে নির্মাণকাজের অনুমতি দেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে মোক্তার হোসেন তার জমিতে ইটভর্তি ট্রাক আনলে বিবি মরিয়মের ছেলে ফয়সাল ও তার সহযোগীরা মোক্তার হোসেনের ওপর অতর্কিত ও বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় মোক্তার হোসেন মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এই বর্বরোচিত হামলা ও নিজেদের অপরাধ ঢাকা দিতে এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে ফাঁসাতে পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর থানায় উল্টো মিথ্যা জিডি করেন বিবি মরিয়ম।

আদালতসূত্র জানায়, বিবি মরিয়মের স্বামী আলাউদ্দিন ওরফে চটপটি আলাউদ্দিন হত্যা মামলাসহ ১৪টিরও বেশি মামলার আসামি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তার ছেলে ফয়সালও র‌্যাব কর্তৃক ডাকাতির প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে ধৃত এবং একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই চক্রটি বারবার মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল। এমনকি অভিযুক্তদের পক্ষে তৎকালীন এমপির লিখিত সুপারিশের কারণে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘদিন পুলিশি প্রতিকার পায়নি।

আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিবি মরিয়মের অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় এবং প্রকৃত ভুক্তভোগী মোক্তার হোসেনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করায় আদালত দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মামলাটি আমলে নিয়েছিলেন। বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় বলেও জানান তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৩ হাটের জন্য ইজারাদার নিয়োগে দরপত্র আহ্বান, অনুমতি আছে ৬টির
পরবর্তী নিবন্ধএবার হত্যার শিকার নবী ডাকাতের ভাই