তিন কিলোমিটার সড়কে তিন বছর ভোগান্তি

মুরাদপুর-অক্সিজেন ।। দায়ী করা হচ্ছে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িকে

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১৪ মে, ২০২২ at ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ

মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন মোড়। হাটহাজারী সড়কের এ অংশের দূরত্ব আনুমানিক তিন কিলোমিটার। তবে গত তিন বছরের অধিক সময় ধরে সড়কটি নিয়ে দুর্ভোগে আছেন নগরবাসী। কারণ, বছরের বেশিরভাগ সময় বেহাল অবস্থায় থাকে সড়কটি। বর্তমানেও সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ হয়ে আছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য সড়কটি প্রথম কাটে চট্টগ্রাম ওয়াসা। সংস্কার না হওয়ায় পরবর্তীতে প্রায় দুই বছর খানাখন্দের জন্য দুর্ভোগ ছিল পথচারীরদের কাছে। এরপর সংস্কার হলেও বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য সেবাসংস্থাও সড়কটির বিভিন্ন অংশে খোঁড়াখুঁড়ি করে। সর্বশেষ গত বছর দেড়েক ধরে অবারও এ সড়কে কোপ পড়ে ওয়াসার। মাঝখানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) প্যাচওয়ার্ক করে মেরামত করলেও খোঁড়াখুঁড়ির জন্য তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। গত সপ্তাহে পরিদর্শনে সড়কটির বেহাল দশা দেখা গেছে। সংস্কারের অভাবে সড়কের বিটুমিন ও ইট-কংক্রিট উঠে গিয়ে সৃষ্ট গর্তগুলোর আকৃতিও বড় হচ্ছে দিন দিন। তার উপর বিভিন্ন জায়গায় ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি সড়কের বেহালদশাকে আরো বেশি শোচনীয় করে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি। স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, বর্তমানে বিবিরহাট মোড়ে ভাঙা অবস্থায় আছে সড়কটি। রেলক্রসিংয়ের মোড়েও একই অবস্থা। বিবিরহাট থেকে আতুরার ডিপো পর্যন্ত বাম পাশে বিটুমিন উঠে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শহীদুল আলম বলেন, বিবিরহাট কাঁচা বাজার এক নম্বর গলি থেকে হামজারবাগ মোড় পর্যন্ত, আতুরার ডিপো থেকে এম আলী পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত অবস্থা বেশি খারাপ। এছাড়া রউফাবাদ থেকে আজিজুল্লাহ সড়কের মুখ পর্যন্ত অংশের প্রায় পুরোটাই ভাঙা। অপর পাশের কোথাও ভালো আবার কোথাও খারাপ।
পথচারী শফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তর চট্টগ্রাম এবং রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির মানুষের যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত এখন কষ্টকর হয়ে উঠছে। ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে খানাখন্দ মেরামত না করলে তা আরো বড় হয়ে যাবে। মানুষের কষ্ট বাড়বে।

পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলী দৈনিক আজাদীকে বলেন, ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে দীর্ঘদিন ধরে লোকজন বেশি কষ্ট পাচ্ছে। এখন আমাদের ওয়ার্ড অফিসের সামনে নতুন করে কাজ করবে বলে জানিয়েছে। এ কাজ দেড়মাস চলমান থাকবে। সেখানে শিট ফাইল দিয়ে কাজ করবে বলেছে। তবে ওয়াসা দেড় মাস বললেও মনে হয় না নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে পারবে।

এ কাউন্সিলর বলেন, গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে রেল গেটের গোড়ায় শিট ফাইল করে ফেলে রেখেছে। ভেতরে কী কাজ করছে জানি না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় মানুষের তো দুর্ভোগ হচ্ছে। সেখানে রাস্তায় মালামাল ফেলে রেখেছে। নেটের জালি দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছে। এ কাজ শেষ করতে আরো কতদিন লাগবে সেটাও ওয়াসা স্পষ্ট করে বলতে পারছে না। পাঁচ-ছয় মাস ধরে আমিন জুট মিলের পরেও একই অবস্থা। এর বাইরে পুরো সড়কে ছোট ছোট কাটা তো আছেই।
এ কাউন্সিলর বলেন, ওয়াসা কাজ করে আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে না। বুঝিয়ে দিলে আমরা প্যাচওয়ার্ক করে রাস্তা মেরামত করে ফেলতাম। দিনে ১৫-২০ টন মিক্সার দিয়ে কাজ করলে মেরামত করতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

সড়কটি নিয়ে কতদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জানতে চাইলে বলেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। একদিকে আমরা সংস্কার করি অন্যদিকে ওয়াসা আবার কাটে। সর্বশেষ আমরা রাস্তা ঠিক করার পর যে ভোগান্তি তাও দেড় বছর হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ওয়াসা একসঙ্গে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করে না। মনে হয় তারা পৃথক পৃথক ঠিকাদার দিয়ে কাজ করাচ্ছে। যার কারণে একবার কাজ করে গেলে কয়দিন পর আবার আরেকজন এসে কাটছে। একবার পাইপ লাইন বসানোর সময় কাটে। এরপর পানির প্রেসার বাড়লে কোথাও লিকেজ হলে আবার কাটে। এভাবেই চলছে গত কয়েক বছর। এখানে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে কাজ হচ্ছে। অথচ ওসব দেশে যখন কাজ হয় তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। মানুষের ভোগান্তি হয় না।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, রেললাইনের ওখানে টানেল হচ্ছে। রাস্তার নিচে দিয়ে ক্রস করে দেয়া হচ্ছে। সেখানে সিটি কর্পোরেশন থেকে আমাদের দীর্ঘদিন কাটতে দেয়নি। এখন সেখানে আমাদের অল্প কিছু কাজ বাকি আছে। আসলে ওখানে আমরা রাতে কাজ করি। রাত ১১টার পর থেকে কাজ শুরু হয়। মাটির নিচ দিয়ে কাজ চলছে তাই উপরে কি হচ্ছে মানুষ বুঝতে পারছে না। আমিন জুট মিলের সামনে কাজ হয়ে গেছে। পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড কার্যালয়ের সামনে চেম্বার হবে বলেও জানান তিনি।

এ সড়কে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে কতদিন লাগবে জানতে চাইলে বলেন, ওনারা (চসিক) বার বার বাধা দেয়। তা না হলে তো একটানা কাজ করে ফেলতাম। ঈদের পরেই অনুমতি দিল। ভাঙা সড়কের জন্য মানুষের দুর্ভোগ প্রসঙ্গে বলেন, এবার আমরা সেটা দেখবো। আমাদের কাজ হয়ে গেলেই সিটি কর্পোরেশনকে ঠিক করে দিতো বলবো। খুব বেশি সময় লাগবে না। সিটি কর্পোরেশনকে আমরা বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিপূরণের টাকাও পরিশোধ করেছি।