তিনশ করেও হার

ক্যাচ মিস, বাজে ফিল্ডিং

| শনিবার , ৬ আগস্ট, ২০২২ at ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ

টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের পর এবার ওয়ানডে সিরিজেও হার দিয়ে শুরু করল বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ সেকান্দার রাজার ঝড়ো শতকের কাছে বাংলাদেশ হেরেছে ৫ উইকেটে। একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার কীভাবে দলকে টেনে নিয়ে যেতে পারেন সেটাই যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সেকান্দার রাজা। তার শতকের পাশাপাশি ইনোসেন্ট কায়ার সেঞ্চুরি জিম্বাবুয়েকে ঐতিহাসিক জয় পাইয়ে দেয়। তবে স্বাগতিকদেগর এই জয়ে বাংলাদেশের ফিল্ডারদেরও ছিল দারুণ ভূমিকা। তারা একাধিক ক্যাচ যেমন ফেলেছেন তেমনি এক রানকে দুই কিংবা তিন রান বানিয়ে দিয়েছেন। ফলে পরিণতি যা হওয়ার তাই হয়েছে। তিনশ রান টপকে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে।
টি-টোয়েন্টি সিরিজে সিনিয়ররা ছিলেন না। ওয়ানডে সিরিজে আছেন সবাই। ব্যাটাররা খেলেছেনও দুর্দান্ত। কিন্তু বোলিং আর ফিল্ডিং তিনশ রানকেও নিরাপদ থাকতে দিল না। ফলে ৯ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ। ১০ বল হাতে রেখে বাংলাদেশের ৩০৩ রান টপকে গেল জিম্বাবুয়ে। শুরুতে ধাক্কা দিয়েও জিম্বাবুয়েকে রুখতে পারল না বাংলাদেশ। শুরুর সাফল্যের পর ম্যাচের বাকি সময়ের পুরোটাই ছিল স্বাগতিকদের নিয়ন্ত্রণে। যার শেষটা হয়েছে অসাধারণ এক জয় দিয়ে। টসে হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরু করতে নামেন তামিম, সঙ্গী ছিলেন লিটন দাশ। দারুণ শুরু করেন দুজন। শুরুতে কিছুটা ধীরস্থির থাকলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে জিম্বাবুয়ে বোলারদের উপর চড়াও হয়েছেন এ জুটি। ২৫.৪ ওভারে ১১৯ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন দুজন। ৮৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৬২ রান করে ফিরেন তামিম। সেকান্দর রাজা ফেরান টাইগার অধিনায়ককে। এই ইনিংস খেলার পথে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে নতুন মাইলফলক উন্মোচন করেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সবার আগে ৮ হাজার রানের মাইলফলকে প্রবেশ করলেন তিনি। এছাড়া এটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫৪তম হাফসেঞ্চুরি।
এরপর এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে দারুণভাবে এগুচ্ছিলেন লিটন দাশ। এই ওপেনার এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু ব্যক্তিগত ৮১ রানে এসে হঠাৎ পায়ে টান পড়ে ডানহাতি এই ব্যাটারের। এমনই অবস্থা যে উঠে দাঁড়াতেও পারছিলেন না। ফলে স্ট্রেচারে শুয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। ৮৯ বলে ৯টি চার এবং একটি ছক্কার সাহায্যে ৮১ রান করেন লিটন। এরপর সময় যতই গড়াচ্ছিল ততই রানের চাকাকে দ্রুত ঘুরাচ্ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ৭৬ বলে ৯৬ রানের ঝড়ো এক জুটি গড়েন এনামুল হক বিজয়। সেঞ্চুরির দিকে যাওয়ার সুযোগ ছিল তারও, কিন্তু পারলেন না। ৬১ বলে থামে বিজয়ের ৭৩ রানের ঝড়ো ইনিংস। এই ইনিংস সাজিয়েছেন তিনি ৬টি চার এবং ৩টি ছক্কার সাহায্যে। এরপর মাহমুদউল্লাহ আর মুশফিকুর রহিম ২৫ বলে ৩৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে তিনশো পার করে দেন। ৩০৩ রানে থামে বাংলাদেশ। মুশফিক ৪৯ বলে ৫টি চারের সাহায্যে অপরাজিত থাকেন ৫২ রানে। আর ১২ বলে ২টি বাউন্ডারিতে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ।
৩০৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই জিম্বাবুয়েকে ধাক্কা দিলেন মোস্তাফিজ। নিজের এবং দলের প্রথম ওভারের শেষ বলে রেজিস চাকাবাকে বোল্ড করে ফেরান মোস্তাফিজ। দলের রান তখন মাত্র ২। পরের ওভারে আরেক ওপেনার মুসাকানদাকে ফেরান পেসার শরীফুল। তিনি করেন ৪ রান। মাত্র ৬ রানে দুই ওপেনার নেই। এরপর অবশ্য প্রতিরোধের চেষ্টা করেন ইনোসেন্ট কায়া এবং মাদভিরে। ৫৬ রান যোগ করেন দুজন। ১৯ রান করা মাদভিরে রান আউট হয়ে গেলে ভাঙ্গে এজুটি। এরপর প্রতিরোধের দেওয়ালটা আরো শক্ত করেন কায়া এবং সেকান্দার রাজা। এ দুজনের প্রতিরোধের দেওয়াল এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তা ভাঙতেই পারছিল না বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেক এসে ভেঙেছেন বটে এই জুটি। তবে ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। ১৫২ রানের জুটি গড়ে ফেলেছেন দুজন। ফিরেছেন কায়া। তার আগে ১২২ বলে ১১টি চার এবং ২টি ছক্কার সাহায্যে ১১০ রান করে দলকে জয়ের কিনারায় পৌছে দিয়ে আসেন। এরপর লুক জংবিকে নিয়ে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান সিকান্দার রাজা। ২৪ রান করে জংবি ফিরলেও দলকে জিতিয়ে তবেই ফিরেন রাজা। ১০৯ বলে ৮টি চার এবং ৬টি ছক্কার সাহায্যে ১৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন রাজা। ম্যাচ সেরাও হয়েছেন তিনি।