ঢাকা-কক্সবাজার আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই চকরিয়ায়

৬০ কিমি দূরের কক্সবাজার স্টেশনে গিয়ে ট্রেন ধরতে হয় ৭-৮টি উপজেলার ২০ লাখ মানুষকে স্থানীয় এমপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া | বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথে চলাচলকারী ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নস্থ চকরিয়ার প্রধান এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনে। যার কারণে চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া এবং পার্বত্য বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলাসহ আশপাশের ৭–৮টি উপজেলার অন্তত ২০ লাখ মানুষকে ঢাকাসহ সারাদেশে যাতায়াত করতে গিয়ে ৬০ কিলোমিটার দূরের পথ ঘুরে কক্সবাজার শহরের আইকনিক রেলস্টেশনে যেতে হচ্ছে। এই অবস্থায় বাড়তি সময় ও অর্থের জলাঞ্জলির পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন এখানকার মানুষ। বিপুলসংখ্যক এসব মানুষ এই স্টেশন ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন ছাড়াও চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করে থাকেন। তাই এই দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় এমপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সাহারবিলস্থ চকরিয়া রেল স্টেশন সূত্র জানায়, বর্তমানে স্টেশনটিতে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি থাকলেও ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের স্টপেজ নেই। ফলে ঢাকা অভিমুখী যাত্রীদের নিজ এলাকার স্টেশন পেরিয়ে কক্সবাজারে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, চকরিয়া স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে বৃহত্তর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে যাতায়াতে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে এবং রেল যোগাযোগের সুবিধা আরও বিস্তৃত হবে।

চকরিয়ার সংবাদকর্মী মো. সাঈদী আকবর ফয়সাল দৈনিক আজাদীকে জানান, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিবেচনায় ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথমবারের মতো রেলপথ উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করেছিলেন তিনি। এর কিছুদিন পর বিষয়টি নিয়ে মতামত যাচাইয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ একটি পরিপত্র প্রকাশ করে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পুনরায় রেলপথ মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন তিনি।

সাঈদী আকবর ফয়সাল আরও বলেন, নিরাপদ যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে মানুষ রেলপথকে বেছে নিচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা–চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম–কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচলের বিষয়ে রেলওয়ের ঘোষণায় চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। চকরিয়া স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা হলে বৃহত্তর এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন।

মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার শোয়াইবুল ইসলাম সবুজ বলেন, নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নেই নির্মাণ করা হয়েছে চকরিয়ার প্রধান রেল স্টেশন। এখান থেকে রেলপথে ঢাকা যেতে চাইলে যাত্রীদের আগে উল্টো দিকে কক্সবাজার যেতে হয়। যে ট্রেন চকরিয়া স্টেশনের ওপর দিয়ে চলাচল করে, তাতে উঠতেও অন্য শহরে যেতে হচ্ছে। তাই এখানকার মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে চকরিয়া স্টেশনে পর্যটক এক্সপ্রেস ও মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালু করা নিয়ে দলগতভাবে আমরা আমাদের সন্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এখানকার সচেতন মানুষের ভাষ্য হচ্ছে– জনদুর্ভোগ লাঘবে চকরিয়া স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মোহাম্মদ সুবক্তগীন বলেন, চকরিয়ার প্রধান স্টেশন ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে সম্প্রতি চালু হওয়া মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির বিষয়ে যাত্রী চাহিদা, স্টেশনের গুরুত্ব ও পরিচালনাগত বিষয়গুলো খুঁটিনাটি বিশ্লেষণের পর জনগণের দাবি বিবেচনায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবান্দরবানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
পরবর্তী নিবন্ধট্রাকের পাটাতনের নিচে তিন লাখ ২০ হাজার ইয়াবা