ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে

| বুধবার , ৪ নভেম্বর, ২০২৬ at ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ

দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ভয়াবহভাবে। গত ২ নভেম্বর দৈনিক অঅজাদীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের দিক থেকে সেপ্টেম্বর মাসকে ছাড়িয়ে গেছে অক্টোবর। এই দুই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৮ জন। অথচ এর আগে ৮ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন ২ হাজার ২৩ জন। শুধু তাই নয়, মোট ৩৬ জনের মৃত্যুর মধ্যে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে। এদিকে চলতি বছর ডেঙ্গুতে পুরুষ আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩১৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। নারী আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৪৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। শিশু আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৭০০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। অর্থাৎ চলতি বছর ডেঙ্গুতে নারী ও শিশু মারা গেছে ২৯ জন, যা মোট মৃত্যুর ৮০ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমপ্রতি চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাতের হার কমেছে। তারপরও সেই হারে ডেঙ্গু আক্রান্ত কমছে না। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বারান্দার মেঝেতে বেশির ভাগ ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এসব রোগীর কারো মশারি নেই। এছাড়া রয়েছে স্যালাইন স্ট্যান্ডের স্বল্পতাও। অনেক রোগীকে বারান্দায় ওয়ার্ডের জানালায় ঝুলিয়ে স্যালাইন দিতে দেখা গেছে। নেই ফ্যানের ব্যবস্থা। ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছিলেন ডেঙ্গু রোগীরা। বেশ কয়েকজন রোগীর স্বজনকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা গেছে। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৩ জন, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ১৯ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৭জন, চট্টগ্রাম সিএমএইচ হাসপাতালে ২ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৬ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে জুন–জুলাই থেকে ডেঙ্গু বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। সেপ্টেম্বর–অক্টোবর থেকে ডেঙ্গু বাড়ার হার তুলনামূলকভাবে কমে আসত। তবে এবার জুন–জুলাইয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেশি ছিল না। আগস্ট থেকে ডেঙ্গু রোগী বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে সেটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডিসেম্বরের আগে ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা নেই।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরনই ছড়িয়ে পড়ায় গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। এক ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর কেউ অন্য ধরনে আক্রান্ত হতে পারেন। এতে জটিলতার আশঙ্কা বেড়ে যায়। বাংলাদেশে এখনো ডেঙ্গুর টিকা চালু হয়নি। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার পত্রিকান্তরে বলেন, অক্টোবরে ডেঙ্গুতে যে হারে মৃত্যু বেড়েছে, সেই হার অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা কম। ডিসেম্বরের আগে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম। কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, আগের বৃষ্টিতে তৈরি হওয়া প্রজননস্থল থেকে মশার বংশবিস্তার চলতে থাকবে। ফলে আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে এলেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ এস এম জাহেদ আজাদীকে বলেন, ডেঙ্গু হলে আসলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ বিশেষ করে হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ এবং গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অনেকের দেরিতে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে এখন জ্বর হলে সাধারণ ভাইরাস জ্বর মনে করে বসে থাকলে হবে না। জ্বর হলে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। ডেঙ্গু হলে পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে। এ সময় ভ্রমণ করা যাবে না। বেশি করে তরল জাতীয় খাবার খাবে। ফলের রস, ডাবের পানি, লেবুর পানি, খাবার স্যালাইন ও সাধারণ পানি খাবে। কোনো ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে যেতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে