ট্রাম্পের বাড়িতে অতি গোপনীয় নথি পেয়েছে এফবিআই

| রবিবার , ১৪ আগস্ট, ২০২২ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

চার সেট ‘অতি গোপনীয়’ ফাইলের পাশাপাশি ট্রাম্পের ভাণ্ডার থেকে আরও মিলেছে তিন সেট ‘গোপন নথি’। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাড়িতে গত সপ্তাহের অভিযানে এফবিআই কিছু ‘অতি গোপনীয়’ নথি জব্দ করেছে বলে এ সংক্রান্ত এক তল্লাশি পরোয়ানায় বলা হয়েছে। বিবিসি লিখেছে, এফবিআই কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে মার-আ-লগোতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ১১ সেট নথি নিয়ে এসেছেন, যার কোনো কোনোটি চিহ্নিত ছিল ‘টিএস/এসসিআই’ (টপ সিক্রেট/সেনসিটিভ কম্পার্টমেন্টেড ইনফরমেশন) নামে, এ ধরনের তকমা সাধারণত সেইসব নথিতে থাকে, যেসব নথির তথ্য বেহাত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ‘ভয়াবহ ক্ষতির’ কারণ হতে পারে। ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কোনো প্রেসিডেন্টের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হল। ট্রাম্প কোনো ধরনের অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, যেসব নথি এফবিআই কর্মকর্তারা নিয়েছেন, সেগুলো ‘ডিক্লাসিফায়েড’ বা ‘গোপনীয় নয়’ এই শ্রেণির। খবর বিডিনিউজের।

শুক্রবার বিকালে এক বিচারক পাম বিচের মার-আ-লগোতে তল্লাশির অনুমোদন দেওয়া পরোয়ানাসহ সাত পৃষ্ঠার একটি নথি প্রকাশে অনুমতি দিলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাড়ি থেকে কী কী জব্দ করা হয়েছে, তা প্রকাশ পায়। এতে বলা হয়, সোমবার ট্রাম্পের বাড়ি থেকে ২০ বাক্সেরও বেশি জিনিসপত্র জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে আছে ফটো বাইন্ডার, হাতে লেখা নোট, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বিষয়ক অনুল্লেখ্য তথ্য এবং ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র রজার স্টোনের সাজা কমানোর আবেদন পত্র। চার সেট ‘অতি গোপনীয়’ ফাইলের পাশাপাশি ট্রাম্পের ভাণ্ডার থেকে আরও মিলেছে তিন সেট ‘গোপন নথি’ ও তুলনামূলক কম গোপনীয় তিন সেট উপাদান। গুপ্তচরবৃত্তি আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতেই এফবিআই কর্মকর্তারা মার-আ-লগোতে ওই তল্লাশি চালিয়েছিলেন বলে প্রকাশিত পরোয়ানায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আইন অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সম্ভাব্য বিপজ্জনক তথ্য নিজের কাছে রাখা বা হস্তান্তর অবৈধ। আইনটির মাধ্যমে গোপনীয় নথিপত্র বা উপকরণ সরানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালেই এই আইনে সাজার পরিমাণ বাড়িয়েছিলেন। এখন এ আইন লংঘনে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ট্রাম্পের ফ্লোরিডা বাসভবনের যেসব জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে তার মধ্যে ’৪৫ অফিস’ ও স্টোরেজ রুমগুলো থাকলেও ট্রাম্প এবং কর্মীরা যেসব ঘর ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন, সেগুলো ছিল না বলেও পরোয়ানায় বোঝা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার পরোয়ানাটি জনসমক্ষে প্রকাশে আবেদন জানিয়েছিল, চলমান কোনো তদন্তের ক্ষেত্রে যা বিরল। ট্রাম্পের আইনজীবীরা বিরোধিতা না করায় শুক্রবার বিচারক পরোয়ানাটি প্রকাশে অনুমতি দেন। গত ৫ অগাস্ট এক বিচারক ওই পরোয়ানা অনুমোদন করেছিলেন, তারও তিনদিন পর ৮ অগাস্ট পাম বিচের মার-আ-লগোতে অভিযান চালানো হয়।