জোট থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না জাতীয় পার্টি

বাবলুর স্মরণসভায় জিএম কাদের

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, দেশে জবাবদিহির অভাব আছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়ছে। ধনী আরও ধনী হচ্ছে। গরিব আরও গরিব হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে এমন একটি সংস্কৃতি সৃষ্টি হচ্ছে যেখানে সৎ, নিষ্ঠাবান ও মেধাবীরা বিভিন্নভাবে ঘৃণিত হচ্ছে, লাঞ্ছিত হচ্ছে। তারা সমাজে টিকে থাকতে পারছেন না। যারা মেধাহীন, বিভিন্নভাবে দুর্নীতি করে, অনিয়ম করে সেরকম মানুষের উত্থান ঘটছে। তারা সব জায়গায় সম্মানিত হচ্ছে। এ কারণে দেশে সুশাসনের অভাব হচ্ছে। দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন করা হচ্ছে না। বরং দুষ্টের পালন শিষ্টের দমন করা হচ্ছে। জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে মহাজোট থেকে অংশগ্রহণ করবে না জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, আমরা ৩০০ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে নগরীর রিমা কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলুর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জিএম কাদের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান জিনিসটি এখন কার্যকর নয়। কিছু কিছু মানুষ এখন আইনের ঊর্ধ্বে। সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। যার যা দায়িত্ব তা তারা পালন করছে না। দেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে মিয়ানমার যখনতখন বাংলাদেশের ভূমিতে বোমা ফেলছে মন্তব্য করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে। নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সবকিছু বাক্য বিনিময় করেই শেষ করা হচ্ছে। এ কারণে এখনও মিয়ানমারকে সমস্যা সমাধানে বাধ্য করা যাচ্ছে না। মিয়ানমার দেশের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে যখন ইচ্ছে গোলাগুলি ও বোমা ফেলছে। দেখে মনে হচ্ছে আমাদের দেশের শক্তি বা নীতি বলে কিছু নেই।
তিনি বলেন, সরকারের বিরোধিতা করা প্রত্যেকটি নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্ব। দেশের মালিক সাধারণ জনগণ। সরকারকে নির্বাচিত করার অধিকার যেমন জনগণের আছে, তেমনি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করার অধিকারও আছে। সরকারকে পরিবর্তন করারও অধিকার থাকতে হবে। যারা সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে এই সমালোচনাকে সুচতুরভাবে সরকার-রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। মানুষকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে। মানুষকে কথা বলার অধিকার দিতে হবে। দেশের মালিক হিসেবে দেশের মানুষের যেকোনো পরামর্শ দেওয়ার অধিকার আছে।
সভায় তিনি আরও বলেন, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ছিলেন আপাদমস্তক গুণী রাজনীতিক ও দক্ষ সংগঠক। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা অপূরণীয়। বাবলু জাতীয় পার্টির মহাসচিব ছিলেন, আমার আত্মীয় ছিলেন। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনে তার যে অবস্থান ছিল সেটা এই দেশের মানুষ মনে রাখবে। জাতীয় পার্টির রাজনীতি করলেও প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের কাছে পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা ছিল তার।
উত্তর জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক এমপি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব সফিক উল আলম চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্টির কো-চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব এডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠ, প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল ইসলাম জহির, জহিরুল আলম রুবেল, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জিয়াউদ্দিন বাবলুর স্ত্রী ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মেহেজেবুন্নেসা, বাবলুর ছেলে ও জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আশিক আহমেদ, পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল কবির দিদার।