হারারের একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনটি বাংলাদেশের জন্য ভালো যায়নি। টানা চার টেস্ট জিতে উড়তে থাকা বাংলাদেশকে মাটিতে নামিয়ে আনে যেন জিম্বাবুয়ে। বাজে ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও ধার দেখাতে পারেনি তারা। সব মিলিয়ে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনটির পুরো নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের হাতে। বাংলাদেশকে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট করে দিয়ে দিনশেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৩৬ রান। ৪ রান পিছিয়ে থেকে সোমবার দ্বিতীয় দিন শুরু করবে স্বাগতিকরা। পাঁচ বছর পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে দ্রুত অলআউট করে ব্যাটিংয়েও দাপট দেখায় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের একমাত্র উইকেটের পতনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৬ ওভার পর্যন্ত। ১৭তম ওভারের প্রথম বলে খালেদ আহমেদের অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন বেন কারান। দলীয় ৮৯ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর বাকি সময়টাতে বাংলাদেশের বোলাররা আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। কাইয়া ৭৬ রানে এবং টেলর ১৭ রানে অপরাজিত আছেন। ম্যাচের যা অবস্থা, তাতে বড় সংগ্রহের দিকেই এগোচ্ছে জিম্বাবুয়ে। সোমবার প্রথম সেশনে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামাতে না পারলে বড় সমস্যায় পড়তে হবে বাংলাদেশকে। হারারে টেস্টে সাত ব্যাটার নিয়ে নামলেও স্বাগতিকদের নিয়ন্ত্রিত পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি সফরকারীরা। শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের সপ্তম ওভারে মাহমুদুল হাসান জয় আউট হওয়ার পর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ১২তম ওভারে ব্র্যাড ইভান্সের বলে ব্যক্তিগত ২০ রান করে ফেরেন সাদমান। এরপর মুমিনুল ও অধিনায়ক শান্ত ৭৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ভরসা দিচ্ছিলেন। কিন্তু লাঞ্চ বিরতির পর হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই নিউম্যান নিয়ামহুরির বলে আউট হন মুমিনুল। ৮১ বলে ৬০ রানের ইনিংসে ১০টি চার মারেন তিনি। তাঁর বিদায়ের পরই ধসে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।
অভিষিক্ত দুই ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয় ও অমিত হাসানও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। হৃদয় করেন ৩ রান, অমিতের ব্যাট থেকে আসে ৪ রান। মুমিনুলের ৬০ রানের ইনিংস ছাড়া সাদমান করেন ২০ এবং শান্ত ১৯ রান। আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। মাত্র ৪৭.২ ওভারে ১৪০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের হয়ে নিউম্যান নিয়ামহুরি ৬১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। এ ছাড়া ব্র্যাড ইভান্স, রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি দুটি করে উইকেট শিকার করেন।












