নগরীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কানেক্টিভিটি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টাইগারপাসের আমবাগানমুখী নামার র্যাম্প, জিইসি মোড়ে ওঠার র্যাম্প এবং বন্দর সংলগ্ন নিমতলা এলাকায় ওঠানামার র্যাম্প দ্রুততম সময়ে চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্পগুলো যথাসময়ে চালু করতে না পারায় নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ এই ফ্লাইওভারের সুফল পুরোপুরি মিলছে না।
সূত্রে জানা যায়, নগরীর যান চলাচলে গতি আনতে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াসা মোড় থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়। এক্সপ্রেসওয়ের মূল অবকাঠামোর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। গাড়ি চলাচলও শুরু হয়েছে। কিন্তু র্যাম্পগুলো চালু না হওয়ায় এক্সপ্রেসওয়েটি ঠিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যেভাবে নির্মিত হওয়ার কথা ছিল পরবর্তীতে সেভাবে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠানামার জন্য ১৫টি র্যাম্প নির্মাণের কথা ছিল। ২০১৭ সালে অনুমোদিত হওয়া এ প্রকল্প থেকে ইতোমধ্যে ছয়টি র্যাম্প বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠানামার জন্য র্যাম্পের সংখ্যা ৯টিতে নিয়ে আসা হয়েছে। এতে করে এক্সপ্রেসওয়ের কানেক্টিভিটি কিছুটা কমেছে। বর্তমানে যে ৯টি র্যাম্প নির্মিত হচ্ছে তার মধ্যে জিইসি মোড়ের গুরুত্বপূর্ণ র্যাম্পটি নানা প্রতিবন্ধকতায় দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। অবশেষে র্যাম্পটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ করে আনা হয়েছে। র্যাম্পটির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না হলেও এটিতে উঠে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। র্যাম্পটি চালু হলে জিইসি মোড়সহ সন্নিহিত এলাকা থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে উঠে পতেঙ্গামুখী যাতায়াত করা সম্ভব হবে। র্যাম্পটি চালু না করায় জিইসি মোড়সহ সন্নিহিত অঞ্চলের ব্যবহারকারীদেরকে মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেটের বায়েজিদ রোডের বেবি সুপার মার্কেটের সামনে থেকে অথবা লালখান বাজারে বিকল্প পথ ধরে এক্সপ্রেসওয়েতে উঠতে হচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এবং জনবহুল বিস্তৃত এলাকার মানুষ র্যাম্প ব্যবহার করতে পারলে এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ত বলে মন্তব্য করে জিইসি মোড়ের র্যাম্পটি চালু করে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অপরদিকে টাইগারপাস মোড়ে আমবাগানমুখী রাস্তায় নামার র্যাম্পটি পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। তবে কয়েকটি স্ট্রিট লাইট এবং নিচে মোড় সম্প্রসারণের কাজের জন্য র্যাম্পটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। র্যাম্পটি চালু না হওয়ায় রাতের বেলা র্যাম্পের উপর এবং পাশের একটি সরকারি পরিত্যক্ত ভবনে অসামাজিক কার্যকলাপের আসর বসে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই র্যাম্পটি চালু করা হলে অনেকের জন্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ব্যবহার সহজ হবে।
বন্দর এলাকায় দুটি র্যাম্পের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে র্যাম্প দুটি চালু করা হলেও পরবর্তীতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই দুটি র্যাম্প চালু করা হলে বন্দর এলাকায় যাতায়াতকারীদের সুবিধা হতো।
প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান বলেন, জিইসি মোড়ের র্যাম্প এবং আমবাগানমুখী র্যাম্পে সিটি কর্পোরেশনের ২০টির মতো স্ট্রিট লাইট রয়েছে। এগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি দিয়েছি। স্ট্রিট লাইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হলে এই দুটি র্যাম্প চালু করে দেওয়া হবে। আগামী দিন কয়েকের মধ্যে র্যাম্প দুটি চালু করে দেওয়া হবে। একইভাবে বন্দর এলাকার র্যাম্পও চালু করে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, আগ্রাবাদের র্যাম্প নির্মাণের কাজ দ্রুত চলছে। সিইপিজেডের র্যাম্পও দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।












