উচ্চ আদালত থেকে জামিনের ধারাবাহিকতায় জেলখানায় জামিননামা রিসিভ হয়েছে। অন্য কোনো পি–ডব্লিও কিংবা সি–ডব্লিও পেন্ডিংও নেই। এরপরও মুক্তি মিলেনি বন্দীর। একজন বন্দীকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘বেআইনিভাবে আটকে’ রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কারাগারটির সিনিয়র জেল সুপারকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করেছে আদালত।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বন্দীর পক্ষে করা একটি আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে এর সন্তোষজনক লিখিত জবাব দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। ‘বেআইনিভাবে’ যাকে আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে তার নাম ইলিয়াছ হোসেন। নগরীর ওমরগণি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় উপশিক্ষা ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক তিনি।
আদালত সূত্র জানায়, নগরীর চকবাজার থানার তিনটি মামলায় গত ৬ জুন গ্রেপ্তার হন ইলিয়াছ হোসেন। এর আগে ১৪ মে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের সামনে সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাযা শেষে সরকার বিরোধী স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গত ১৪ জুলাই গ্রেপ্তার দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট) হয়। ইলিয়াছ হোসেনের আইনজীবী আনসার উল্লাহ সৌরভ দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘উক্ত মামলায় আমার মক্কেল গত ৭ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করলে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে জামিননামা রিসিভ করানো হয়। তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো পেন্ডিং পি–ডব্লিও কিংবা আগের কোনো মামলায় সি–ডব্লিও আদেশ ছিল না। কিন্তু কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি না দিয়ে বেআইনিভাবে আটকে রাখে।’ আইনজীবী বলেন, ‘জানতে পেরেছি যে– আজকে (গতকাল) দুপুরের দিকে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে খুলশী থানার একটি মামলায় আদালত থেকে একটি পি–ডব্লিও আদেশ গিয়েছে কারাগারে। হয়তো এটির জন্যই ইলিয়াছ হোসেনকে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে কারাগার কর্তৃপক্ষ এ কাজ কোনোভাবেই করতে পারে না। কোনো একটি পি–ডব্লিও কিংবা সি–ডব্লিও আসছে বা এসে পৌঁছাবে সে আশায় একজন বন্দীকে আটকে রাখা হবে সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ কাজ ন্যায়বিচার পরিপন্থী এবং সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। এসব বিষয় আমরা আদালতের নজরে দিলে বিচারক শুনানি শেষে এ বিষয়ে জবাব দাখিলের জন্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘জামিননামা দাখিলের পরও বন্দীকে আটকে রাখা হয় মূলত কোনো কারণ থাকলে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।’ পাশাপাশি আদালতের শোকজের জবাবও যথাসময়ে দেওয়া হবে বলে জানান সিনিয়র জেল সুপার।












