জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি চায় নগরবাসী

| মঙ্গলবার , ২১ জুন, ২০২২ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

অবিরাম ভারী বর্ষণে নগরে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় এই নগরী। বছরের পর বছর নগরবাসী আটকা থাকে জলে। অবর্ণনীয় দুর্ভোগ চারদিকে। তাঁরা দশকের পর দশক পানিবন্দি জীবন থেকে মুক্তির আহাজারি করছে। বর্ষণ শুরু হলে বড় বড় কর্তাদের তোড়জোড় প্রত্যক্ষ করি আমরা। হাজার কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগের পরও জলাবদ্ধতা থেকে এখনও মুক্তির দেখা পাচ্ছে না নগরবাসী। এটা তাদের জন্য বড় দুর্ভাগ্যই বলা যায়।

বলা বাহুল্য যে, সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাভূমি, নিম্নাঞ্চল, খাল ও নদী ভরাট ও দখল, খাল ও নালা-নর্দমা আবর্জনায় ভরাট এবং নিয়মিত পরিষ্কার না করা, সংস্থাগুলোর দায়িত্বহীনতা, জবাবদিহিতার অভাব, দায়িত্বে অবহেলা, সমন্বয়হীনতা, জনসচেতনতার অভাব রাজধানীর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। নগরীর পানি নিষ্কাশন পথগুলো পলিথিন, প্লাস্টিক বোতলসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকে। শত শত কোটি টাকা খরচ করে এসব আবর্জনা পরিষ্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়ন করলেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর। বর্তমান সময়েও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। এরপরও স্বস্তিতে নেই নগরবাসী।

জানা যায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। কিন্তু এ পর্যন্ত অনেক সময় পার হলেও এই প্রকল্পের কোনো সুফল এখনো দৃশ্যমান হয়নি। মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে নগরীর খালগুলো থেকে মাটি তোলার কাজ শেষ করা যায়নি। দখলদারদের উচ্ছেদ করার কার্যক্রম চলছে। যেখানে যেখানে পানি আটকে গিয়েছিল সেখানে পরিষ্কার করে দেন তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করে নগরে চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ শাহ আলী দৈনিক আজাদী বলেন, খালে বাঁধ না থাকায় কোথাও পানি আটকাচ্ছে না। তবে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় পানি যেতে সময় লাগছে। দুই নম্বর গেট ও মুরাদপুর এলাকার জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো খালের কাজ তো এখনো শেষ হয়নি। খাল বড় করলেও মুরাদপুরে তো কালভার্ট করা হয়নি। সেখানে তিন ফুট জায়গা দিয়েই পানি যাচ্ছে। ফলে এদিকে পানি আটকে আছে।

উন্নয়ন পরিকল্পিত নয় বলেই নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে- এমন অভিযোগ আমরা হরহামেশা পাই। প্রতি বছর বর্ষা এলে জল জমে নাগরিক জীবন বিপর্যস্ত হওয়া, এটা নিত্যনৈমত্তিক চিত্র। জলাবদ্ধতার কোনো প্রতিকার হয় না। শুধু অঙ্গীকার আর প্রতিশ্রুতি শোনানো হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘ঢাকার পর চট্টগ্রাম মহানগরী পৃথিবীর দ্রুত বেড়ে ওঠা শহরগুলোর অন্যতম। নানা সংকটে এ নগর দিন দিন বর্তমানে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। বাসস্থান, যাতায়াত, বিনোদন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশসহ মৌলিক ও প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এগুলোর সাথে যুক্ত হয়েছে যানজট ও জলাবদ্ধতা। মহানগরীর সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সময়োপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যর্থতা, অদূরদর্শিতা, দায়িত্বহীনতা এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাবসহ নানা কারণে নগর জীবনের সমস্যাগুলো দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ নগরীকে বসবাসযোগ্য একটি পরিকল্পিত মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলার মূল দায়িত্ব সিডিএ’র। এছাড়া ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এবং সংস্থাগুলো তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে ব্যর্থ হওয়ায় এ নগরী বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ফলে দ্রুত জীবনযাত্রার মানের অবনতি ঘটছে এবং নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে’।

মোট কথা বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি তো হবেই। মাত্র শুরু হয়েছে বর্ষার মৌসুম। সামনে আরও বৃষ্টি হবে। এই অবস্থায় নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্তৃপক্ষকে টেকসই ও সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে এগোতে হবে। জনগণকেও এবিষয়ে সচেতন করা এবং তাদেরকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। খুব সহসাই জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসী মুক্তি চায়।