কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা বাড়িয়ে ও অনলাইনে বেচাকেনার বিষয়টি যুক্ত করে ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯–এর সংশোধনী খসড়া প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খসড়াটি গতকাল বুধবার প্রকাশ করে অংশীজনদের মতামতের জন্য আগামী ৩০ দিন ওয়েবসাইটে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনের খসড়ায় বিভিন্ন পণ্যের মোড়কে তথ্য না দেওয়ার শাস্তি হিসেবে একবছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা অর্থদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। বর্তমান আইনে এ ক্ষেত্রে একবছর বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। একইরকম বিধান করা হয়েছে পণ্যের নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি মূল্য নেওয়ার ক্ষেত্রেও। খবর বিডিনিউজের।
এছাড়াও ভেজাল বা নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রির শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ড তিনবছর থেকে কমিয়ে দুইবছর করা হয়েছে। আর অর্থদণ্ড দুই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে তিন লাখ টাকা। নকল পণ্যের ক্ষেত্রেও নতুন আইনে শাস্তি ভেজাল পণ্যের মতই করা হয়েছে। খসড়ার যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, আইনে সর্বোচ্চ জরিমানা পর্যাপ্ত না হওয়ায় বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শাস্তির উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
আইনের কয়েকটি ধারায় মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থের মূল্য কমে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ভেজাল ও নকল পণ্যে কারাদণ্ড এক বছর কমলেও জরিমানা এক লাখ টাকা বাড়ানোর কথা বলা হয়। এছাড়াও নতুন কিছু ধারা যুক্ত হয়েছে খসড়ায়। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় সংযোজন ডিজিটাল কমার্স নিয়ে। এতে বলা হয়েছে, অনলাইনে পণ্যের বিবরণ না দিলে এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (ডিবিআইডি) ছাড়া ব্যবসা চালালে এক বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া ডিজিটাল গিফট কার্ড, ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ক্যাশ ভাউচার তৈরি ও বিক্রিতে একই দণ্ড রাখা হয়েছে। নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা অনলাইন জুয়া–বেটিংয়ে বলা হয়েছে ২ বছর কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা জরিমানার কথা। এছাড়াও নিবন্ধন ছাড়া ডিজিটাল কমার্স চালালে ১ বছর বা ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে খসড়ায়।
বাজারের জন্য আরও তিনটি নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। এরমধ্যে সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে অবৈধ মজুতের শাস্তি করা হয়েছে ২ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা। বিক্রয় রশিদ না দিলে একবছর বা ১ লাখ টাকা জরিমানা; আইন প্রয়োগে বাধা দিলে একবছর বা ২ লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়াও ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পাশাপাশি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও ব্যবস্থা নিতে পারবেন বলে তুলে ধরা হয়েছে খসড়ায়। ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বদলানো বা ফেরত নিয়ে মূল্য ফেরত দেওয়ার বিধানও যুক্ত হচ্ছে আইনে। ডিজিটাল কমার্সে প্রতিশ্রুত পণ্য না পেলে অগ্রিম অর্থ ফেরতেরও ব্যবস্থা থাকছে। এসব ক্ষেত্রে সাজার বদলে জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল বা ব্যবসা স্থগিত করা যাবে। আইনের খসড়ায় কিছু সংজ্ঞায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ভেজাল’ ও ‘ভেজাল খাদ্য’ আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে। ‘মজুত’ ও ‘মানসম্মত’ সংজ্ঞাও নতুন যুক্ত হয়েছে।













