জনসভায় পাঁচ লাখ লোক সমাগমের আশা

প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার আসছেন কাল ।। সংবাদ সম্মেলনে ১১ দাবি

চকরিয়া ও রামু প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ at ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর আগামী বুধবার (৭ ডিসেম্বর) পর্যটন নগরী কক্সবাজার আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এমপি। এদিন তিনি কক্সবাজার পৌঁছেই অংশ নেবেন জেলার উখিয়ার ইনানীতে আর্ন্তজাতিক নৌ মহড়ায়। সাগর পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌ মহড়ায় অংশগ্রহণের পর তিনি শহীদ শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় অন্তত পাঁচ লাখ লোকের সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় কক্সবাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশা প্রকাশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে ৯ উপজেলা, চারটি পৌরসভাসহ জেলার ৭১টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকাতেও ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা অব্যাহতভাবে চলছে কয়েকদিন ধরে। মাইকিং, প্রচারপত্র বিতরণসহ নানা কায়দায় এই প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাস্থল কক্সবাজার শহরের লাবণী পয়েন্টের সমুদ্র পাড়ে নির্মিত শহীদ শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঞ্চ নির্মাণসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার তোড়জোড় চলছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে শত শত তোরণ নির্মাণ, দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো কঙবাজার শহর। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য তোরণ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে স্বাগত জানিয়ে কঙবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবার কক্সবাজার সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিনি না চাইতেই কক্সবাজার জেলাবাসীকে অনেক কিছুই দিয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সাজ সাজ রব পড়েছে পুরো কঙবাজারে। শুধু জনসভার মাঠ নয়, লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠবে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, বাহারছড়ার মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, হলিডের মোড়, শহীদ স্মরণী এলাকা, কলাতলীর হোটেল মোটেল জোন হয়ে কলাতলীর ডলফিন মোড় পর্যন্ত। এজন্য পুরো এলাকাজুড়ে দুই শতাধিক মাইক ব্যবহার করা হবে।

কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে জানান, ইতোমধ্যে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো কক্সবাজারকে। এজন্য পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও সার্বিকভাবে কাজ করছে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের কঙবাজারের জনসভা স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসমাগম হবে। প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালের ৬ মে সর্বশেষ কক্সবাজারে আসেন। এ সময় তিনি জনসভায় কক্সবাজারকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। তাঁর এ ঘোষণার আলোকে কক্সবাজারে চলছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প। যার সুফল পাবেন কক্সবাজারসহ দেশবাসী। এছাড়াও জেলাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে নতুন করে আরও ১১ টি দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়।

এই ১১ দাবি হচ্ছে, কক্সবাজার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কঙবাজার মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সংযুক্তিকরণ, কক্সবাজারের সাথে মহেশখালী উপজেলার সংযোগ সেতু ও বাঁকখালী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ, কুতুবদিয়া মগনামার মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালুকরণ, কক্সবাজার পর্যটন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চার লেনের মেরিন ড্রাইভ, ছয় লেনের কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহসড়ক, কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন, কক্সবাজার সিটি কলেজকে সরকারিকরণ, চকরিয়া উপজেলা মাতামুহুরীকে পৃথক উপজেলা ঘোষণা, ঝিনুক ব্যবসায় সাথে জড়িত উচ্ছেদকৃত ব্যবসায়ীদের পুর্নবাসন ও স্থায়ী আধুনিক ঝিনুক মার্কেট নির্মাণ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, সকাল থেকে জনসভাস্থল মঞ্চে স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে, উপজাতীয় সংস্কৃতির নানা পরিবেশনাও থাকবে অনুষ্ঠানে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাখাওয়াত মুন ও হাসান জাহিদ তুষার, আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সংসদ সদস্য যথাক্রমে সাইমুম সরওয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিক ও জাফর আলমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।