আনোয়ারা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র চাতরি চৌমুহনী বাজারে সড়ক উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে অধিগ্রহণকৃত ভূমি উদ্ধারে তিন শতাধিক স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)।
সওজের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাজিয়া আক্তার চৌধুরীর নেতৃত্বে সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে বাজার এলাকার সড়কের ওপর গড়ে ওঠা ভাসমান দোকান, বিলবোর্ডসহ অধিগ্রহণকৃত জমির বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ করা হয়। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দীন ও আনোয়ারা থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছর ধরে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযানের কথা শোনা গেলেও বিভিন্ন মহলের চাপে তা পিছিয়ে যায়। তবে সামপ্রতিক এ অভিযানের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। টানা দুই দিন ধরে বহু মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অভিযান প্রত্যক্ষ করেন। দীর্ঘদিন পর চাতরি চৌমুহনী বাজারে জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সওজ জানায়, ‘চাতরি (চৌমুহনী)-সিইউএফএল–কর্ণফুলী ড্রাইডক (মেরিন একাডেমি) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং শিকলবাহা ওয়াই জংশন থেকে কালাবিবি দিঘির মোড় পর্যন্ত কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়কের ছয় লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে স্থাপনা অপসারণে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক ৩৪ ফুট প্রশস্ততায় উন্নয়ন, আরসিসি ড্রেন ও ক্রস ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এ লক্ষ্যে চাতরি বাজার এলাকায় অধিগ্রহণকৃত জমিতে গড়ে ওঠা শতাধিক ভাসমান স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে।
অভিযানকালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা, আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জোনায়েদ চৌধুরী, সওজের উপ–বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু আহসান মুহাম্মদ আজিজুল মোস্তফাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সওজের উপ–বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ আল নোমান পারভেজ বলেন, সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্যই এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে এবং কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।














