চবি শিক্ষার্থীদের জন্য শহরে পাঠাগার স্থাপনের দাবি

চাকসুর সংবাদ সম্মেলন

চবি প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ১৯ মে, ২০২৬ at ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

নতুন অর্থবছরের বাজেট অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং শহরে পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থাগার স্থাপনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে চবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘চবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সার্বিক সংস্কার ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব লিখিত বক্তব্যে দুই দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৬২০২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। শহরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ শহরভিত্তিক লাইব্রেরি স্থাপন করতে হবে। স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত চারুকলা ইনস্টিটিউটকে অস্থায়ী লাইব্রেরি হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটোরিয়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ লিখিত বক্তব্যে জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক, কার্যকর ও শিক্ষাবান্ধব লাইব্রেরি গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত বই নিয়ে পড়াশোনার সুবিধার্থে আলাদা রিডিং কর্নার চালু করা হয়েছে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে লাইব্রেরিতে জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। ছাত্রীদের জন্য পৃথক ও প্রশস্ত নামাজ কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়াশরুম ও ওযুখানার কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। লাইব্রেরির পাশেই বৃহৎ ওপেন স্টাডি স্পেস তৈরি করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারে। এছাড়া নতুন লাইট ও ফ্যান সংযোজন, চেয়ারটেবিল স্থাপনের মাধ্যমে আসনসংখ্যা বৃদ্ধি, লাইব্রেরির সময়সীমা বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনায় কপি শপ চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে লাইব্রেরির সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে চাকসু নেতারা আরও জানান, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) স্থাপনের দাবিতে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসের সহায়তায় প্রায় ৭৯ লাখ টাকার একটি এসি প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং স্পনসর সংগ্রহের চেষ্টাও চলছে। বক্তারা বলেন, দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে এসি সুবিধা থাকলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত লাইব্রেরিতে এসি স্থাপনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চাকসুর সহছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য সোহান ও আদনান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ
পরবর্তী নিবন্ধসমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থাই জাতিকে অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে