ঈদকে সামনে রেখে চাঙা হয়ে উঠেছে গ্রামীণ অর্থনীতি। নানা কারণে চাপে থাকা গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। প্রবাসীদের প্রচুর রেমিটেন্স স্বজনদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করেছে। পাইপ লাইনেও প্রচুর রেমিটেন্স রয়েছে। আত্মীয় স্বজনদের খরচের জন্য বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ বাজারে ঘুরতে শুরু করেছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে বেশ গতিশীলতা দিয়েছে। গতকাল বেশ কটি ব্যাংকে খবর নিয়ে প্রচুর রেমিটেন্স আসার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। গ্রামেগঞ্জের ব্যাংকের শাখাগুলোতে প্রচুর ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।
পবিত্র জিলহজ্ব মাসের চাঁদ দেখা গেছে। দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদ। কোরবানির পশুর বাজারের পাশাপাশি মসলাপাতিসহ বিভিন্ন বিকিকিনিকে কেন্দ্র করে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়েছে। মফস্বল থেকে থানা সদর পর্যন্ত সর্বত্রই গরু বাজারের পাশাপাশি নানা পণ্যের জমজমাট ব্যবসা চলছে। বেশ কিছুদিন ধরে অনেকটা থমকে থাকা গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাঙাভাব পরিলক্ষিত হতে শুরু করেছে। থানা সদর এবং গ্রামের বাজারগুলোতে লোকজনের উপস্থিতি এবং দোকানে দোকানে বেচাবিক্রি বেড়েছে। গরু বাজারের পাশাপাশি অন্যান্য দোকানপাটও বেশ সরগরম থাকছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলেছে, প্রচুর ক্রেতা বাজারে আসা যাওয়ায় ব্যবহার করছেন নানা পরিবহন। যা পরিবহন খাতে গতিশীলতা তৈরি করেছে। গরু ছাগল কেনাবেচা ও পরিবহন বেড়েছে। সবকিছু মিলে বাজারে টাকার যোগান বেড়েছে, প্রচুর টাকা হাতবদল হচ্ছে। যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আলাদা একটি মাত্রা দিতে শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের গ্রামীণ অর্থনীতি অনেকটা কৃষি, চাকরি এবং রেমিটেন্স নির্ভর। আর উপরোক্ত প্রত্যেকটি খাতে কোরবানের সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। যারা চাকরি করছেন তারা ঈদ বোনাস পাবেন, কৃষিতে শাক সবজির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের ফলমূলের ফলন ফলেছে। যা বিক্রি করে কৃষকের হাতে টাকা আসছে। যে টাকা হাত ঘুরে বাজারে খরচ হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক হচ্ছে রেমিটেন্স। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রায় ৫১ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বৈধভাবে বসবাস করেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক তথ্যে জানা গেছে। দেশের প্রবাসী পরিবারের অন্তত ৩৫ শতাংশের বসবাস চট্টগ্রাম বিভাগে। যাদের কাছে প্রবাসীরা নিয়মিত টাকা পয়সা পাঠিয়ে থাকেন। কোরবানকে সামনে রেখে টাকা পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যাংকগুলোর শাখা ব্যবস্থাপকেরা জানান। তারা বলেন, প্রচুর টাকা পয়সা প্রবাসীরা পাঠাচ্ছেন। এখানে পরিবার পরিজন তা তুলে নিয়ে বাজার সদাইও করছেন। যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করে তুলছে বলেও সূত্রগুলো মন্তব্য করেছে। এবার অন্ততঃ ২৫ হাজার কোটি টাকার রেমিটেন্স আসবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন, দেশের সার্বিক অর্থনীতি ভালো নেই। বিভিন্ন ধরণের বৈশ্বিক এবং স্থানীয় সংকটের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে অর্থনীতি। অর্থনীতি ভালো না থাকলে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী ভালো থাকে না। সাধারণ মানুষের হাতে টাকা পয়সার যোগান কমে আসছে। মূল্যস্ফীতিতে কাহিল দেশের সাধারণ মানুষ। জিনিসপত্রের দাম বহু মানুষেরই ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। এমতাবস্থায় কোরবানকে কেন্দ্র করে অর্থনীতির যে প্রবাহ শুরু হয়েছে তা শুধু গ্রামীণ অর্থনীতিই নয়, দেশের অর্থনীতির সার্বিক গতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে অন্তত ২ হাজার কোটি টাকার রেমিটেন্স আসবে বলে উল্লেখ করে সূত্রগুলো বলেছে, এই দুই হাজার কোটি টাকাই মূলতঃ চট্টগ্রামের গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বস্তিতে রাখবে। কোরবানের পশুর বাজারে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। আগামী ১০দিন এই লেনদেন আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। গ্রামে গ্রামে গৃহপালিত বহু পশু কোরবানির বাজারে বিক্রি হবে, যা মূলতঃ গ্রামীণ অর্থনীতিকেই চাঙা করছে।













