রাঙ্গুনিয়ায় কোদালা বনবিটের পক্ষ থেকে বিনা নোটিশে ঘরবাড়ি উচ্ছেদের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত, গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের চন্দ্রঘোনা–কদমতলি ইউনিয়নের উত্তর বনগ্রাম কলাবাইজ্যাঘোনা এলাকায় ‘সর্বস্তরের সচেতন এলাকাবাসী’র ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে ‘অধিকার আদায়ে আমরা সবাই একসঙ্গে’ এবং ‘আমাদের দাবি ন্যায়বিচার, হয়রানি নয়’ শীর্ষক নানা স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, বনবিভাগের এহেন কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষ আজ দিশেহারা। একের পর এক বন মামলায় কপাল পুড়ছে দিনমজুর থেকে শুরু করে প্রবাসীদেরও। ভুক্তভোগীদের মধ্যে সিএনজি চালক মো. রহমতের রয়েছে ১১টি বন মামলা, ব্যবসায়ী বাদশার ৭টি, দিনমজুর হোসেনের ৬টি, প্রবাসী নজরুলের ৩টি মামলা, দিনমজুর আনোয়ারের ৮টি মামলা। এমনকি স্থানীয় সেলি আক্তার নামে এক নারীর তিন ছেলের বিরুদ্ধেই ৯টি বন মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। মানববন্ধনে আয়েশা আক্তার ও তার পিতা হানিফ মাঝি ভাঙচুর হওয়া ঘরটি দেখিয়ে অশ্রুসজল চোখে প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে শিশুপুত্র কোলে নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ন্যায়বিচারের আকুতি জানান ইয়াসমিন আক্তার নামের এক নারী।
মানববন্ধনে বক্তব্য রেখে সংহতি প্রকাশ করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী মো. ইলিয়াস সিকদার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাফফর চৌধুরী, শোয়াইব কাদের, লিচুবাগান সিএনজি চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান, চন্দ্রঘোনা ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আহমদুল হক, গ্রাম সর্দার মোহাম্মদ জগলু, চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. ফোরকান, যুবদল নেতা সোহেল, দানেশ আলী, বাস ড্রাইভার আজিম এবং ক্ষতিগ্রস্ত আয়েশা বেগম।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বনবিভাগ কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনগ্রাম শেগুন বাগান এলাকায় ১৯৮৬ সাল থেকে বসবাসকারী আয়েশা আক্তার ও তার পরিবারকে কোনো নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করতে গেলে বনবিভাগের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়। এতে উপজেলা রেঞ্জ অফিসারসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন এবং কাপ্তাই সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনবিভাগ ৩টি মামলা দায়ের করে। অন্যদিকে, আয়েশা আক্তারও একটি মামলা করেন, যাতে ইকোপার্ক লিজ নেওয়া বিএনপি নেতারা আসামি হন এবং তারা বর্তমানে জামিনে আছেন।
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা রেঞ্জ অফিসার মেহেরাজ হোসেন জানান, রিজার্ভ ফরেস্টে অনুমতি ছাড়া যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। সেখানে উচ্ছেদ অভিযানে নোটিশ দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। এই অভিযান ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যেই ঘরটি উচ্ছেদ করা হয়েছিল সেটি নতুন নির্মিত ঘর। যা সেদিন সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। আর সড়ক অবরোধ করে এসিল্যান্ড এর সামনে তার উপর হামলা হয়েছে বিকাল ৩টার দিকে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যেটা করা উচিত, সেটা করতে গেলে তারা মব করে আমার উপর হামলা করেছে। এই ব্যাপারে উর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান আইনানুগভাবে চলমান থাকবে।












